Close

September 17, 2020

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

 মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হল শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। এটি খাটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। কাব্য পুঁথিটি রচনা করেছেন বড়ু চণ্ডীদাস। তবে তিনি সেটি ছদ্মনাম অনন্ত বড়ু ব্যবহার করে লিখেছিলেন। কাব্যটির রচনা কাল চতুর্দশ শতাব্দির শেষ দিকে। পুঁথিতে প্রাপ্ত চিরকুট অনসারে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এর আসল নাম হল ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ব্ব”।

 শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথতম একক কাব্য গ্রন্থ। পুথিটি পাওয়া যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে। পুঁথিটি উদ্ধার করেন বসন্তরঞ্জন রায় ‍বিদ্বদ্বল্লভ ১৯০৯ সালে। বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি। রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই। কাব্যটি মোট ১৩ টি খণ্ডে বিভক্ত। প্রশ্ন করা, উত্তর দেওয়া আর প্রত্যুত্তরের মাধ্যমে কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এই পুঁথিটিকে ‘ঝুমুর’ জাতীয় লৌকিক নাটগীতের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবেও অভিহিত করা যায়।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এর ১৩ টি খন্ড আছে। তবে শেষের খণ্ডে খণ্ড শব্দটি উল্লেখ নেই বলে কিছুটা বিতর্ক আছে এ ব্যাপারে। খণ্ডগুলো হল ১. জন্ম খণ্ড ২. তাম্বুল খণ্ড ৩. দান খণ্ড ৪. নৌকা খণ্ড ৫. ভার খণ্ড ৬. ছত্র খণ্ড ৭. বৃন্দাবন খণ্ড ৮. কালীয়দমন খণ্ড ৯. যমুনা খণ্ড ১০. হার খণ্ড ১১. বাণ খণ্ড ১২. বংশী খণ্ড ১৩. রাধা বিরহ।

বিসিএস, প্রিলিসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় আসা শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরঃ

১. মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন কোনটি?

 উত্তরঃ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

২. সর্বজন স্বীকৃত ও খাঁটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?

 উত্তরঃ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

৩. মধ্যযুগের প্রথম কাব্য গ্রন্থ কোনটি?

 উত্তরঃ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

৪. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কোন যুগের বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন?

 উত্তরঃ মধ্যযুগের।

৫. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা কে?

 উত্তরঃ বড়ু চণ্ডীদাস।

৬. মধ্যযুগের প্রথম কবি হচ্ছে-

 উত্তরঃ বড়ু চণ্ডীদাস।

৭. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কার করেন কে?

 উত্তরঃ বসন্তরঞ্জন রায়।

৮. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি আবিষ্কৃত হয় কখন?

 উত্তরঃ ১৯০৯ সালে।

৯. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যখানি আবিষ্কৃত হয় কোথায়?

 ‍উত্তরঃ গোয়ালঘরে।

১০. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড সংখ্যা মোট কতটি?

 উত্তরঃ ১৩ টি।

১১. গঠনরীতিতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মূলত-

 উত্তরঃ নাটগীতি।

১২. বড়াই কোন কাব্যের চরিত্র?

 উত্তরঃ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

১৩. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বড়াই কী ধরনের চরিত্র?

 উত্তরঃ রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: