ব্যাকবেঞ্চাররা কেন মিলিয়নার হয়?

ব্যাকবেঞ্চাররা কেন মিলিয়নার হয়? Why backbenchers become millionaire?

বিল গেটস একবার বলেছিলেন যে পরীক্ষায় তিনি কিছু বিষয়ে বারবার ফেল করে যেতেন আর তার বন্ধু বরাবরই সব বিষয়ে পাশ করে যেত। আজ বিল গেটস মাইক্রোসফটের মালিক আর তার বন্ধু মাইক্রোসফটের ইন্জিনিয়ার। এপিজে আব্দুল কালাম বলেন “দেশের সবচেয়ে ব্রেইনি মাথা হয়তো কোনো ক্লাস রুমের শেষ বেঞ্চে পাওয়া যেতে পারে”। তাদের এ কথা বলার কারণ কি আর আমরা কথা টা কিভাবে নেই এ নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।

এ বিষয়টি আলোচনা করবো Robert Kiyosaki এর লেখা বিখ্যাত বই Why “A” students work for “C” students and “B” student work for the Government বই থেকে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় খুব ছোট থেকে ইতিহাস, ভূগোল, জীবনী পড়িয়ে শেষ করা হয় কিন্তু জীবনে সবচেয়ে জরুরী যে জিনিস টাকা উপার্জন সেটা নিয়েই তেমন কিছু শেখানো হয় না। স্কুলগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের শেখানো যে কিভাবে একটা চাকরি জোগাড় করা যায়। তারা শেখায় না কিভাবে একটা কোম্পানি খুলে আরো কয়েকজনকে চাকরি দেওয়া যায়। ফাইনাসিয়াল ইডুকেশনের ব্যাপারে কোথাও কোন কিছু শেখানো হয় না। এমনকি অনেকের বাসায়ও এটা শেখানো হয় না। তাই চলুন আজ নিজে নিজেই জেনে নেওয়া যাক।

আইডিয়া ১: তিন ধরনের উপার্জনের মধ্যে পার্থক্যটা বুঝতে শিখুনঃ উপার্জন প্রধানত তিন প্রকার। 1. Ordinary Income 2. Portfolio Income 3. Passive Income

  1. Ordinary Income: এই ইনকাম হল নিজে কাজ করে টাকা ইনকাম করা। আপনি সারাদিন পরিশ্রম করবেন সেটা কোনো দিন বেশি বা কোনো দিন কম হতে পারে। কিন্তু আপনার ইনকাম নির্দিষ্ট। সেটার বেশি হবেনা। এই ইনকামের পদ্ধতিটাই স্কুল কলেজগুলোতে গড়ে উঠে। এই পদ্ধতিতে উপার্জনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পাওয়া হয় না। উপার্জনের স্বাধীনতা হল যখন টাকা উপার্জনের জন্য আপনার নিজেকে আর শারীরিক ভাবে পরিশ্রম করতে হবে না।
  2. Portfolio Income: এই ইনকাম পদ্ধতি হল শেয়ার বাজার বা এই জাতীয় ক্ষেত্রে টাকা ইনভেস্ট করা। এই পদ্ধতি Ordinary Income এর চেয়ে অনেক ভালো। কিন্তু এতে অনেক বেশি রিস্ক থাকায় এটিকেও সেরা ইনকাম পদ্ধতি বলা যায় না। আর শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করেও উপার্জনে স্বাধীনতা অর্জন করা যায় না।
  3. Passive Income: এই ইনকাম হল পরিশ্রম না করেই সমানভাবে উপার্জন করা বা এই পদ্ধতি অবলম্বন করা। যেমন বাড়ি ভাড়া দেওয়া, দোকান বা প্লাজা ভাড়া দেওয়া। কারণ এসব ক্ষেত্রে মাস গেলেই আপনার পকেটে টাকা এসে ঢুকবে। আবার ফেসবুক, এমাজনসহ অন্যান্য এরকম প্রতিষ্ঠানের মালিক যদি দুই মাসের ছুটিতেও চলে যায় তাদের ইনকাম হওয়া কি বন্ধ হয়ে থাকবে? থাকবে না। লেখকের মতে এই পদ্ধতি হল সেরা ইনকামের পদ্ধতি।

আইডিয়া ২: Cash Flow Quadrant বুঝুনঃ এটি চাকরি খোজার চেয়েও জরুরী। এই ক্যাশ ফ্লো কোয়াড্রান্ট এর চারটি ভাগ রয়েছে।

প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগে থাকেন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরীজীবি আর নিজের দক্ষতার উপর উপার্জনকারী। প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবি যারা আছেন তারা শিক্ষাজীবনে কোনো একটা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে সেটা উপরে ভিত্তি করে চাকরি খোজেন। আর ভালো একটা বেতনে আশা করেন। তারা চাকরির নির্ভরতার দিকে লক্ষ্য রাখেন। আর নিজের দক্ষতার উপর ভিত্তি করে যারা কাজ করে যেমন ডাক্তার, উকিল, ফ্রিল্যান্সার। তারা নিজের চেয়ে কাউকে দক্ষ মনে করেন না। তাই তারা কাউকে কাজ দেন না। নিজের কাজ নিজে করেন আর একাই ইনকাম করে যা উপার্জন করে তাই নিয়েই চলেন।

তৃতীয় ও চতুর্থ ভাগে থাকেন ব্যবসার মালিক ও ইনভেস্টর। ব্যবসার মালিকরা প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগে যারা থাকেন তাদের অটো পাইলট মুডে নিয়ে আসেন। তাদের চাকরি দেন এবং তাদের পরিশ্রম করা ইনকামের ভাগ থেকে নিজের ইনকাম তৈরি করেন যদিও তারা পরিশ্রম করেননা খুব একটা। তবুও তাদের ইনকাম হতেই থাকে। আর ইনভেস্টররা হল তার থেকে বেশি চালাক তারা তৃতীয় ধাপে থাকো ব্যবসার মালিকদের ব্যবসায় ইনভেস্ট করে আর তা থেকে শূণ্য পরিশ্রমে ইনকাম করতে থাকে। ব্যবসার মালিকরা তাও কর্মীদের খোজ খবর নিতে হয় কিন্তু ইনভেস্টররা সেটাও করেন না। অনেক সময় তারা অন্যের থেকে টাকা নিয়ে তা ইনভেস্ট করে আর মাঝখান থেকে ইনকাম করতেই থাকে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় প্রথম ধাপ ও দ্বিতীয় ধাপের মানুষরা বেশি নির্ভরতায় থাকে কিন্তু আসলে তা নয় বরং তারাই সবচেয়ে বেশি রিস্কে থাকে। কারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক তাকে যেকোন সময় বের করে দিতে পারে তখন তার বেতন নেমে আসবে শূণ্যে। কিন্তু ইনভেস্টরদের ইনভেস্ট করার অনেক ক্ষেত্র থাকে।

আইডিয়া তিনঃ একটা জিনিসে ভিষণভাবে পারদর্শী হওয়ার থেকে অনেক জিনিসে অল্প পারদর্শী হওয়াও ভালো। শুরুর গল্পটা মনে আছে বিল গেটস আর এপিজে আব্দুল কালামের উক্তির কথা? সেটার উত্তর পাওয়া যাবে এবার। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায় যে কেউ একটা বিষয়ে দক্ষ হয়ে বের হয়। কেউ ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার হয়ে বের হয়। আর এগুলো হল চাকরিজীবী আর নিজের দক্ষতায় উপার্জনকারী হয়ে বের হওয়া। এই শিক্ষায় ব্যবস্থায় ভালোরা উপরের কাজগুলো করে আর যারা ব্যাকবেঞ্চার বা খারাপ শিক্ষার্থী তারা এই শিক্ষা ব্যবস্থায় সিস্টেমে যায় না। তারা সবখান থেকে কিছু কিছু করে শিখতে থাকে। আর আপনি যদি ইনভেস্টর হতে চান আপনাকে অনেক বিষয় সম্পর্কে জানাশোনা থাকতে হবে। বিভিন্ন ইনভেস্ট করার ক্ষেত্র সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে। যেটা সাধারণত ক্লাসের শেষের গ্রেডের শিক্ষার্থীদের সাথে মিলে যায়। আর যারা মধ্যম মানের শিক্ষার্থী তারা হয় সরকারী চাকরি করে। কারণ তারা একটা বিষয়ে পুরোপুরি দক্ষ হয়েও ওঠেনা আবার অন্যান্য বিষয়েও একটু ধারণা রাখে।

আশা করি পুরো বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। শুভ হোক আপনার পথচলা। আলোচনাটি ভালো লাগলে ফেসবুকে রেকমেন্ড করুন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন

কীভাবে জীবনের লক্ষ্য খুজতে হয়?

জেনে নিন অসফল মানুষদের ছয়টি অভ্যাস বা ব্যর্থ হওয়ার কারণ

কীভাবে ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠবেন?

কোটিপতি ওয়ারেন বাফেট এর কিছু জীবন বদলে দেওয়া মূল্যবান উপদেশ

প্রকৃত ভালোবাসা আসলে কি?

Leave a Comment