প্রকৃত ভালোবাসা আসলে কি?

ঘটনা -১

এক প্রেমিক তার প্রেমিকাকে বলল যে জিন্স আর টপ কেন পরেছ আমি কি তোমাকে মানা করিনি? তারপরও কেন পড়েছো? তার প্রেমিকা বলল আরে সবাইতো পড়ছে। ছেলেটা বলল সবাই পড়ছে এজন্য তুমিও যদি পরো তাহলে তোমার আর আমার সাথে রিলেশনে থাকার দরকার নেই। মেয়েটা বলল তুমি এমন করছো কেন? ছেলেটা বলল কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি।

ঘটনা – ২

ইন্জিনিয়ারিং পড়ে এমন এক ছেলে তার বাবাকে বলল যে তার ইন্জিনিয়ারিং এ একদম আগ্রহ নেই। তার ফটোগ্রাফি ভালো লাগে। ইন্জিনিয়ারিং এর প্রতিটি ক্লাস কেবল তার কষ্ট বাড়ায়। অপরদিকে ফটোগ্রাফির প্রতিটি মুহূর্ত তার জীবনে আনন্দ নিয়ে আসে। তার বাবা তাকে বলল ফটোগ্রাফিতে কোনো ক্যারিয়ার নেই। হয় ইন্জিনিয়ারিং কর নাহলে বাসা থেকে বেরিয়ে যাও।

এখন ভাবুন এসব কে কি ভালোবাসা বলে? এগুলোই কি প্রকৃত ভালোবাসা? আসলে এগুলো প্রকৃত ভালোবাসা নয় । এগুলো ব্যাক্তিগত চাহিদা। যার নাম আমরা ভালোবাসা দিয়েছি। গুলিয়ে ফেলেছি ভালোবাসার সাথে।

চাহিদা দুই প্রকার। ১. Physical (শারীরিক) 2. Emotional (অনুভূতিময়/মানসিক)। বিভিন্ন সম্পর্ক গড়ার মধ্য দিয়ে মানুষ সাধারণত এই দুই ধরনের চাহিদা পুরণ করার চেষ্টা করে। আর এ চাহিদাগুলোর নাম আমরা দিয়েছি ভালোবাসা।

ধরুন আমার একটা ইমোশনাল চাহিদা রয়েছে এ পৃথিবীর সাথে সবসময় কানেক্টেড থাকার। এর জন্য আমার প্রয়োজন একটা মোবাইল ফোন। এখন আমরা এ চাহিদাটার নাম দিয়ে দিয়ে বলি যে আমি আমার মোবাইলটাকে ভালোবাসি।

ধরুন আপনার একটা চাহিদা রয়েছে কারো সাথে আপনার মনের কথাগুলো শেয়ার করার। তাই আপনি একজন মেয়ে বেস্টফ্রেন্ড বানিয়েছেন আর এর নাম দিয়েছেন ভালোবাসা। আর অপরদিকে উনার হয়ত এমন কোনো চাহিদা রয়েছে তাই তিনি আপনার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। যাকে তিনিও আপনার মত ভালোবাসার নাম ‍দিয়ে দিয়েছেন। ঠিক দুজনের চাহিদা যতদিন একই থাকে ততদিন ঠিক আর সব সুন্দর ভাবে চলে। কিন্তু যখনই চাহিদা বদলে যায় শুরু হয় ঝগড়া, অমিল। আর ভালোবাসাটাও কোথায় যেন হারিয়ে যায়। তারা পরিণত হয় শত্রুতে।

তাহলে প্রকৃত ভালোবাসা কি? উপরের ঘটনা – ১ যদি ছেলেটা মেয়েটাকে বলতো বাহ জিন্স আর টপে তোমাকে দারুণ লাগছে। সেটা কি প্রকৃত ভালোবাসা হত? নাকি দ্বিতীয় ঘটনায় যদি বাবা তার সন্তানকে বলতো বাহ ঠিক বলেছিস। ইন্জিনিয়ারিং ছেড়ে দে। কালকে থেকেই ফটোগ্রাফি শুরু করে দে। সেটা কি প্রকৃত ভালোবাসা হতো?

সেটাও প্রকৃত ভালোবাসা নয়। প্রকৃত ভালোবাসা হল যে ভালোবাসা তৈরি হয় চাহিদার ভিত্তিতে নয় বরং নিঃস্বার্থভাবে। ঘটনা ২ এ পিতা কেন মেনে নিতে চাচ্ছেন না? এর কারণ হল লোকে কি বলবে সেই ভয়, কিংবা বৃদ্ধকালে কিভাবে সেই সন্তান তাদের সাপোর্ট দেবে সেই ভয়। অর্থ্যাৎ এখানেও চাহিদা রয়েছে। তাহলে নিঃস্বার্থ বা চাহিদাহীন হওয়া যাবে কিভাবে? সেটা হওয়া যাবে যখন আপনার যা আছে তাতেই আপনি সন্তুষ্ট থাকবেন। কারণ এ পৃথিবীতে চাহিদার কোনো শেষ নেই। একটা পুরণ হবে আরেকটা চাহিদার জন্ম হবে। তাই চাহিদার জন্য ভালো না বেসে নিঃস্বার্থতা শিখুন।

এখন আপনি বলতে পারেন যে কোনো সন্তান যদি ভুল সিদ্ধান্ত নিতে চায় তাহলে কি করা যাবে? সেক্ষেত্রে, প্রতিটা সিদ্ধান্ত হবে আলোচনা করে। যেমন ঘটনা দুই এ পিতা তার সন্তানকে জিজ্ঞেস করতে পারে ফটোগ্রাফিতে সম্ভবনা কেমন? সে নিজে তা করে সুখে জীবন যাপন করতে পারবে কিনা? তিনি নিজে কি ভাবছেন কেন ভাবছেন তা সন্তানকে বুঝিয়ে বলতে হবে। দেখা যাবে সিদ্ধান্ত খুব ভালো আসবে কারণ পিতার কোনো পিছুটান নেই। লোকে কি বলবে তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। প্রথম ঘটনায় দুজনে আলোচনা করতে পারে তার সেধরণের পোশাক পড়ার কারণ কি আর সে কেন সেটা পড়তে মানা করলো সেটা জানা।

কখনো প্রকৃত ক্ষুধার্থ মানুষকে খাইয়েছেন কি? কিংবা কোনো বিপদে পরেছে এমন কোনো মানুষকে সাহা্য্য করেছেন কি? ‍যদি করে থাকেন তাহলে নিশ্চিয় জানেন এসবের পর মন প্রশান্ত হয়ে যায়, ভালো লাগে। সে অনুভূতি প্রকাশের কোনো ভাষা নেই। এ ভালোবাসায় এমন কেন অনুভূত হয়? কারণ হল এ ভালোবাসার স্বার্থ থাকেনা, চাহিদা থাকে না। বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা থাকেনা।

প্রকৃত ভালোবাসা চাহিদাহীন, নিঃস্বার্থ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও প্রেম মিশ্রিত হয়। একপাক্ষিক চাপিয়ে দেওয়া কোন বোঝা নয়।

আরো পড়ুন

কীভাবে প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করবেন?

কীভাবে অলসতা দুর করবেন খুব সহজেই

মোবাইল ফোনের আসক্তি কমানোর উপায়

কিভাবে সুন্দরভাবে কথা বলা যায়?

Leave a Comment