জীবনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কি?

বেশ কিছু দিন আগের কথা। ফেমাস মিউজিক ব্যান্ড লিনকিন পার্ক প্রধান গায়ক চেষ্টার বেনিংটন আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর সময় তার রেখে যাওয়া সম্পদের পরিমাণ ৩০ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশী টাকায় তা ২০০ কোটি পেরিয়ে যাওয়ার কথা। তারপরও তার আত্মহত্যা করতে হল কেন? তাহলে কি টাকাই সবকিছু নয়? টাকা, ফেমাস হওয়া সবকিছু নয়। যদি তাই হতো তাহলে চেষ্টার আত্মহত্যা করতো না। সম্প্রতি ভারতে অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেন বলেই পুলিশের ধারণা। সুশান্ত কি চাইলেই মেয়েদের ভালোবাসা পেতে পারতো না? সে তো জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে একজন।

টাকা কিংবা জনপ্রিয়তাই জীবনের সবকিছু নয়। লিনকিন পার্কের চেষ্টার গায়ক হিসেবে সেরা পুরষ্কার পান। তার এ্যালবাম বিক্রি রেকর্ড হয়ে আছে। ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মেও ছিলেন তিনি। তাহলে ক্যারিয়ারে সফলতাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাহলে জীবনে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কি? আজকের পোস্টে আমরা আলোচনা করবো সেটা নিয়েই।

আমাদের জীবনে পাচঁটি জিনিসের গুরুত্ব অনেক বেশি। সেগুলো হল ১. ক্যারিয়ার ২. টাকা ৩. রিলেশনশীপ ৪. জনপ্রিয়তা ৫. স্বাস্থ্য। এগুলোর একটি জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেই। চেষ্টার বেনিংটনের এসব ছিল। এসব ছিল সুশান্তেরও। তাহলে জীবনে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে কোন বিষয়ে তা আবার ভাবার সময় চলে এসেছে।

সবার প্রথমে আলোচনা করা দরকার ডোমিনো ইফেক্ট নিয়ে। সেটা হল খুব ছোট একটি খারাপ কাজ করা ধীরে ধীরে আপনাকে খারাপের এক বিশাল জগতে নিয়ে যেতে পারে। যেমন দিনে একটা করে সিগারেট আপনাকে ধীরে ধীরে নেশার জগতে নিয়ে যেতে পারে। অথচ আপনার শুরুতে মনে হবে ‍দিনেতো শুধু একপা সিগারেটই খাই। ঠিক তেমনি নিয়মিত দশটা ব্যায়ামের পুশ আপ আপনাকে নিয়ে যেতে পারে প্রত্যেকদিন ব্যায়ামে এবং তা থেকে ছিক্স প্যাক বডি। এটাই ডোমিনো ইফেক্ট। তাই যে কোন সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ভেবে চিন্তে।

মানুষ কেন আত্বহত্যা করে তাহলে? মানুষই তখনই আত্বহত্যা করে যখন তার মনে হয় যে, সে যে ধরনের সমস্যায় পরেছে তার কোনো সমাধান নেই । এবং সে সমস্যাটা তার কাছে মৃত্যু যন্ত্রণা থেকেও বেশি। তাই প্রতিদিন সে ওই সমস্যা বহন করে তার মানে হল সে প্রতিদিন মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করে। তার কাছে মনে হয় প্রতিদিন মরার চেয়ে একবারই কেন মরে যাই না। তারপর আত্বহত্যা।

এ পৃথিবী ও এই ইভনিভার্সটা এত বড় যে এমন কোন সমস্যা নেই যেটা সে হজম করতে পারেনা। আমরা শুধু মনের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা নেই আর ভাবি যে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেল। আর কোন সমাধান নেই। আসলে এসব মনের কিছু অসুস্থ চিন্তা।

চেষ্টারের আত্মহত্যার পেছনে যেসব কারণ দায়ী বলে মনে করা হয় তার মধ্যে একটি হল Child Abusement চেষ্টারকে ৭ বছর থেকে ১৩ বছর পর্যন্ত বয়স্ক একজন পুরুষের দ্বারা যৌন নিপিড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এছাড়া তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু কিছু দিন আগে আত্বহত্যা করে। যা সে মেনে নিতে পারেনি। সে মাদক সেবীও ছিল। তার বাবা মায়ের ডিভোর্সের পর থেকে সে ড্রাগ নিতে শুরু করে। রিলেশনশীপে সমস্যা, মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত, মানসিক শান্তি নষ্ট হওয়া সব একত্রিত হয়ে সেটা তাকে আত্বহত্যার দিকে নিয়ে যায়।

তাহলে দেখা যাচ্ছে ক্যারিয়ার টপে থাকলেও মানসিক শান্তি যদি না থাকে তাহলে ক্যারিয়ার কিছু না। পপুলারিটি বা ফেমাস হলেও মানসিক শান্তি না থাকলে তা কিছুই না। তাহলে জীবনে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত মানসিক শান্তিকে।

কারণ মানসিক শান্তি ঠিক না থাকলে বাকি সুখ শান্তি এমনি নষ্ট হয়ে যাবে। তাই মানসিক শান্তি আনুন ছোট হলেও ভালো কাজ করা শুরুর মাধ্যমে। কারণ সেটাই ডোমিনো ইফেক্টের কারণে আপনাকে আরো ভালো কাজের দিকে নিয়ে যাবে।

পোস্টটি আপনার উপকারে আসলে আশা করি শেয়ার করবেন আপনার বন্ধুদের সাথে। ধন্যবাদ।

Leave a Comment