কোটিপতি ওয়ারেন বাফেট এর কিছু জীবন বদলে দেওয়া মূল্যবান উপদেশ

সম্প্রতি জাস্টিন সান নামে এক ক্রিপোকারেন্সি ইন্টারপ্রিনিয়ার সাড়ে চার মিলিয়ন ডলার খরচ করে বিশ্বের সেরা ধনী ও ইনভেস্টর ওয়ারেন বাফেট এর সাথে লাঞ্চ বুক করেন তার কাছ থেকে কিছু উপদেশ পাওয়ার জন্য। আশার খবর হল আপনাকে আর আমাকে আর এসব উপদেশ নিতে টাকা খরচ করতে হবে না। আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় হল কোটিপতি ওয়ারেন বাফেট এর জীবন বদলে দেওয়ার মত কিছু মূল্যবান উপদেশ নিয়ে। কিভাবে তিনি পৃথিবীর সেরা ধনী হয়ে উঠলেন তার অভিজ্ঞতা তিনি বর্ণনা করেছেন এসব উপদেশে। যার মধ্যে শেষের উপদেশটা সবচেয়ে মূল্যবান। কিন্তু ধারাবাহিক না পড়লে আপনি হয়তো তার পুরো অর্থটা ধরতে পারবেন না। কারণ প্রত্যেকটা উপদেশ কোন না কোন ভাবে আরেকটার সাথে সম্পর্ক যুক্ত।

কোটিপতি ওয়ারেন বাফেট এর কিছু জীবন বদলে দেওয়া মূল্যবান উপদেশ

উপদেশ ১: সব সময় চেষ্টা করুন আপনার চেয়ে উন্নত মানসিকতার লোকদের সাথে চলা ফেরা করার যদি আপনি আপনার চেয়ে উন্নত মানসিকতার লোকদের সাথে মেশেন, চলাফেরা করেন তাহলে আপনিও সেদিকে এগোতে শুরু করবেন। এ ব্যাপারে ইয়াহু কম্পানির সিইও মারিসা মায়ারের একটা ইন্টারভিউতে তুলে ধরা ঘটনা বর্ণনা করছি।

মারিসা এক বান্ধবী ছিল। সে খুবই দারুণ বাস্কেট বল খেলত। সে ব্যাপারে তার সুনাম ছিল। তো তাকে একবার অপশন দেওয়া হল যে সে ভার্সিটি সিনিয়র টিমের সাথে খেলবে না জুনিয়র টিমের সাথে খেলবে। তবে অপশনের ব্যাখ্যা হল ‍যদি সে সিনিয়র টিমের সাথে খেলে তাহলে হয়তো তাকে সারা বছর বেঞ্চে বসেই কাটাতে হবে কারণ সেখানে সবাই সিনিয়র নতুন কেউ গেলেই তাকে ম্যাচে নেওয়া হয় না। আর যদি সে জুনিয়র টিমে খেলে তাহলে সে শুরু থেকেই খেলতে পারবে। পারফরমেন্স ভালো হলে টিম ক্যাপ্টেন হয়ে যেতে পারে সে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে সে সিনিয়র টিমে গেল এবং বসে কাটানোর সিদ্ধান্তটা নিলো। পরের বছর মারিসা ভার্সিটি সিনিয়র টিমে একজন সিনিয়র হিসেবে জয়েন করল এবং শুরু থেকে খেলতে লাগল। আর যারা ওই সময় জুনিয়র টিমে গিয়েছিল তারা এবার সিনিয়র টিমে এসে এক বছর বেঞ্চে বসে কাটাতে লাগল। মারিসা যখন তার বান্ধবীকে জিজ্ঞেস করল যে তুই কিভাবে জানলি ‍সিনিয়র টিমে জয়েন করাই বেস্ট সিদ্ধান্ত ছিল? তার বান্ধবী জানাল যে, আমি ভেবেছি আমি যদি শুরু থেকে খেলতে নাও পারি কিন্তু সিনিয়র টিমের সেরা প্লেয়ারদের সাথে প্রাক্টিস করতেও পারি তাহলেও আমার খেলা অনেক ইম্প্রুভ হবে।

উপদেশ ২: নিজের কাছে ভালো ও সৎ থাকুনঃ ওয়ারেন বাফেট একজন স্বাধীন চেতা মানুষ। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে নিজের কাছে সৎ থাকেন। তিনি মানুষ তার ব্যাপারে কি ভাবে তার পাত্তা দেন না। কারণ মানুষ যদি তাকে সৎ ভাবে আর তিনি যদি সৎ না হন তবে নিজের কাছেই অপরাধী হবেন। তাই তিনি গুরুত্ব দেন তিনি মানুষের ভালো করছেন কিনা, মানুষ উপকৃত হচ্ছেন কিনা। তার যে পরিমাণ সম্পদ তা তিনি চাইলেই অন্যখানে সরিয়ে ফেলতে পারতেন তাহলে আর টেক্স দিতে হত না। কিন্তু তা তিনি করেন নি। তিনি তার নীতিতে অটল থেকেছেন সব সময়।

উপদেশ ৩: সবাই যা করছে তাই করতে হবে এমন কিন্তু নয়ঃ আপনি কি জীবনে অনেক সঙ্গী চান যারা বিপদে আপনাকে কোনো সাহায্য করবেনা শুধু সহানুভূতি দেখাবে? নিশ্চয়ই চান না। তাই সবাই যে কাজ করছে তাই করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। ধরুন ১% মানুষ শুধু ব্যায়াম করে বাকিরা করেনা। এখন সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করা সম্ভবনা কার? ওই এক পারসেন্ট এর। তরুণ বয়সে ৯৯% ছেলেমেয়ে যখন জীবন উপভোগে ব্যস্ত তখন ১% এমন থাকে যারা ওইসময় ব্যস্ত কাজে। তারা সময় নষ্ট করতে চায় না। তারা সময়কে কাজে লাগাতে চায়। এরা চায় ভবিষ্যত সুন্দর ও সমৃদ্ধ করতে। এরাই সফল হয়। তাই সময় নষ্ট বন্ধ করুন। অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

উপদেশ ৪: সাফল্যের জন্য চাই ধর্য্য ও একাগ্রতাঃ ধরুন আপনি একটা কাজে খুবই পারদর্শী এবং দক্ষ। কিন্তু আপনি যেমনি হন না কেন সেই কাজ দিয়ে সফল হতে গেলেও আপনাকে ধর্য্য ও একাগ্রতা রাখতে হবে। সাফল্য রাতারাতি আসে না। আপনি একজন তারকা ফুটবলারকে দেখে ভাবলেন ইস যদি আমিও এমন খেলতে পারতাম। কিন্তু আপনি দেখেননি সেই ফুটবলারকে কত পরিশ্রম করতে হয়েছে, কতবার সে ইনজুরিতে পড়েছে। ধনী বা সফল ব্যক্তিদের দেখে ভাবলেন যে ‍যদি আমিও ধনী হতে পারতাম। কিন্তু কতবার তিনি ব্যর্থ হয়েছেন, ব্যবসায় লস হয়েছে।  অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি পরিশ্রম করেই গেছেন আর আজ তিনি সফল। তাই ধর্য্য রাখুন, একাগ্রতা ধরে রাখুন। সফল আপনি হবেনই।

উপদেশ ৫: না বলতে শিখুন এবং নিজের সময়কে নিজে নিয়ন্ত্রণ করুনঃ বর্তমান আধুনিক যুগে আপনার সময় নষ্ট করার মত জিনিসের অভাব নেই। ফেসবুক, ইউটুব, টুইটার সহ অনেক কিছু। এছাড়া ‍কিছু মানুষ রয়েছে যারা আপনাকে আর আপনার সময়কে ব্যবহার করবে। এসব কিছু কে না বলতে শিখতে হবে। না হলে আপনার সময় কে কাজে লাগিয়ে তারা সফল হয়ে যাবে আর আপনার শুধু সময় নষ্ট হবে। কিন্তু আমরা না বলতে পারিনা কেন? এর কারণ হয়তো এটাই যে আমরা অন্যের চোখে সবসময় ভালো থাকতে চাই। মাঝে মাঝে আমরা ভয় পাই যে সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যায় নাকি না বললে। এমন অবস্থার উপর ‍ভিত্তি করে যেসব সম্পর্ক তৈরি হয় তার অধিকাংশ সত্য নয়। আপনার মা বাবা, প্রিয় বন্ধ তাদের আপনি কি না বলেন নি? বলেছেন । তারা কি আপনাকে ছেড়ে গেছে। যায় নি। হয়ত মন খারাপ করেছে কিন্তু আপনাকে ছেড়ে যাবেনা। তাই যারা না বলার কারণে আপনাকে ছেড়ে যাবে ভাবছেন তারা সত্যিই আপনাকে ব্যবহার করছে। নিজের সময়কে কাজে লাগান। নিজের সময় কে নিজে নিয়ন্ত্রণ করুন। সময় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই ছিল ওয়ারেন বাফেট এর সেরা কয়েকটি উপদেশ। এ উপদেশগুলো মেনে চললে আপনার জীবন বদলে যাব। পোস্ট থেকে আপনি উপকৃত হলে বন্ধুদের মাঝে তা শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন বিশ্বের বিখ্যাত ব্যাক্তিদের মোটিভেশন :

জীবনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কি?

কিভাবে সুন্দরভাবে কথা বলা যায়?

মোবাইল ফোনের আসক্তি কমানোর উপায়

কীভাবে অলসতা দুর করবেন খুব সহজেই

Leave a Comment