যেভাবে নিজের জীবন বদলে ফেলা সম্ভব।

প্রথমেই নিজের ব্যাপারে চিন্তা করুন। কে আপনি? কি কি আপনি পারেন আর কি কি পারেননা? যদি পারেন না এমন জিনিসের তালিকাই লম্বা হয়ে যায় তাহলে বলবো এই পোস্টটি আপনার জন্য। আমাদের অনেক বার এমন মনে হয় যে সকালে ওঠা আমার দ্বারা হবে না, আমিতো রাত জাগা পাখি, ব্যায়াম! ওসব আমার কর্ম নয়। কখনো এমনও হয় যে অন্যকে দেখিয়ে আপনাকে উদাহারণ দেওয়া হয় যে দেখ ও কত কি করে ফেলল আর তোর কিছুই হয় না।

আপনি কি জানেন এসব কিছুর জন্য দায়ী আপনার কিছু ভাবনা। এসব আমার দ্বারা হবেনা, আমি এসবের জন্য যোগ্য না এসব চিন্তাই আপনার ব্যর্থতার জন্য দায়ী। আপনি যদি শুধু এই চিন্তাগুলো বদলে দিতে পারেন তাহলেই নিজের জীবন বদলে দেওয়া সম্ভব।

Louise Hay নামক বিখ্যাত লেখিকার জীবন ও লেখা বই You Can Heal Your Life থেকে এসব চিন্তা থেকে বের হওয়ার উপায় ও জীবন বদলে ফেলার যুগান্তকারী কিছু রুলস বা পরিকল্পনা আলোচনা করা হবে এই পোস্টে। লেখিকা লুইসের মা, লুইস জন্মানোর কিছুদিন পরেই লুইসের বাবার কাছ থেকে ডিভোর্স নিয়ে নেয়। এবং তার কিছু দিন পরেই আরেকটা বিয়ে করে ফেলেন। এই সিদ্ধান্তটা হয়তো তার জীবনের সবচেয়ে বাজে সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটা ছিল। লুইস ৫ বছর বয়সেই তার এক প্রতিবেশী দ্বারা ধর্ষিত হয় এবং ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত নিজের সৎ বাবার কাছ থেকে যেীন হেনস্থার স্বীকার হতে হয়।

এসব অবস্থা থেকে বাচঁতে লুইস বাসা থেকে পালিয়ে যায় এবং এক রেষ্টুরেন্টে গিয়ে কাজ নেয়। কিন্তু সে সেখানে একজনের দ্বারা গর্ভবতী হয়ে যায় এবং এক বাচ্চারও জন্ম দেয়। লুইসের কাছে সন্তান পালন করার মত টাকা ছিল না। সে সময় সন্তান দত্তক নেওয়ার জন্য বাচ্চা খুজতেছিল এমন এক দম্পত্তির কাছে তার সন্তান দত্তক দেন এবং সেখান থেকে এরপর তিনি শিকাগো চলে যান। সেখান থেকে আবার নিউইয়র্ক। সেখানে তিনি মডেলিং শুরু করেন। সেখানে উচ্চ পদস্থ একব্যাক্তির সাথে তার প্রণয় গড়ে ওঠে এবং তারা বিয়েও করেন। বিয়ের ১৪ বছর পর তার ডিভোর্স হয়ে যায়। জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা থেকে মুক্তি পেতে তিনি চার্চে যোগ দেন। যার নাম ছিল Church of Religious Science.  যেখানে তিনি এ কথাটি শিখেন যে আপনি শুধু আপনার চিন্তাগুলো বদলে দিয়েই আপনার জীবন বদলে ‍দিতে পারেন। আর সেখান থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন আন্তর্জাতিক মানের লেখিকা ও বক্তা। তার সমস্ত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এই আইডিয়াগুলো শেয়ার করেছেন। তাহলে জেনে নেওয়া যাক সেই আইডিয়াগুলো।

আইডিয়া ১. নিজের অপ্রয়োজনীয় বিশ্বাসগুলোকে বদলাতে সবসময় প্রস্তুত থাকাঃ এই অপ্রয়োজনীয় বিশ্বাসগুলোর মধ্যে আমি খুব অলস, সকালে ওঠা আমার দ্বারা হবেনা। যেগুলো আমরা মেনে চলি আজ নয়তো কাল আমরা সেগুলোই হয়ে উঠি। একবার চিন্তা করুন সকালে পরীক্ষা থাকলে কিন্তু সকালে উঠতে পারিনা কথাটা বলেন না। ইদের দিন সকালে উঠতে পারেননা এমনটা কিন্তু বলেননা। কিংবা অলস হলেও ক্রিকেট কিন্তু টানা ২-৩ ঘণ্টা খেলে ফেলেন। তাহলে আপনি অলস কিভাবে? এগুলো আপনার মনের ভ্রান্ত ধারণা। তাহলে নিজেকে বলেই ফেলুন যে, হ্যা, আমি বদলাতে চাই। আমি আর অলস নই।

আইডিয়া ২. নিজেকে ও অন্যকে ক্ষমা করে দিনঃ আমাদের মধ্যে অনেকেই আছি যারা নিজেদের অতীত নিয়েই পড়ে থাকি এবং নিজেকে দোষারোপ করতে থাকি। কখনো এমনো হয় অতীতে কারো দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হলে তাকে দোষারোপ করতে থাকি। আর বলতে থাকি আজ তার জন্য আমার এমন অবস্থা। আপনি তার অতীত ঘেটে দেখুন সেও সেরকমই কিছুর স্বীকার। আর সে এবং আপনি কেউই আর এগুতে পারেননি। তাই তাদের ক্ষমা করে দিন। যেমনটা লেখিকা লুইস করেছেন তার বাবা মাকে ক্ষমা করে দিয়ে।

আইডিয়া ৩. প্রতিদিন নিজের মধ্যে পজিটিভিটি বাড়ানঃ নিজের মধ্যে বেশি বেশি পজিটিভিটি বাড়ান। যেমন কি করতে চাই বা কি পেতে চাই বদলে এখন আমি কি করছি তা ভাবা উচিত। যেমন আমি প্রতিদিন ব্যায়াম করবো এর বদলে আমি প্রতিদিন ব্যায়াম করি এই ভাবনাটা আনতে হবে। আমার খুশি থাকা উচিত এর বদলে আমি খুব খুশি এভাবে ভাবতে হবে। নিজের ভেতর বিশ্বাস আনুন যে আপনার একটা ভালো ও সুন্দর জীবন প্রাপ্য।

লুইস মানুষকে তিনটা অংশে ভাগ করেন। 1. Body 2. Mind 3. Soul সকালে উঠুন, ব্যায়াম করুন, পুষ্টিকর নাস্তা খান। পজিটিভ চিন্তা নিয়ে দিনটা শুরু করুন।নিজের লক্ষ্যগুলো নিয়ে চিন্তা করুন। মানষকে সাহায্য করুন ও কারো ভুলগুলো ক্ষমা করুন। যেসব ভালো কাজ করলেন তার জন্য নিজেকে পুরষ্কৃত করুন। রাতে ঘুমানোর আগে মেডিটেশন করুন। দেখবেন আপনি বদলে গেছেন। লুইস শুধু মানসিক পজিটিভিটি দিয়ে ক্যান্সার জয় করেছেন।

ভালো থাকুন, ভালো রাখুন। ধন্যবাদ।

Leave a Comment