ধনীরা কেন ধনী আর গরীবরা কেন গরীব?

আজকে আমরা আলোচনা করবো T. Herv Eker  এর লেখা বই ‘Secrets of the Millionaire Mind’ থেকে। আলোচনা বিষয়বস্তু হল ধনীরা কেন ধনী আর গরিবরা কেন গরিব আর কিভাবে ধনী হওয়া যায়।

একটা রিসার্চ থেকে জানা গেছে যারা কোনো লটারি পেয়ে ধনী হয়েছে বা কোনো দৈবক্রমে অনেক টাকার মালিক হয়ে গিয়েছে তাদের মধ্যে ৮০% মানুষ দুই বা চার বছর পর আবার গরিব হয়ে গেছে। আবার যারা কষ্ট ও পরিশ্রম করে ধনী হয়েছিল তারা যদি কোনো কারণে গরিবও হয়ে থাকে তবুও দুই বা চার বছর পর ৮০% মানুষই আবার ধনী হয়ে যায়। এ ব্যাপারটাই শুধু মানসিকতার। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক এর রহস্যটুকু।

আমরা মানসিকভাবে নিজেদের যেমন ভাবে চিন্তা করি, আমরা একদিন এমনই হয়ে যাই। আর মনের চিন্তাই আমাদের বাইরে প্রকাশ পায়। এটা অনেকটা গাছের মত। ধরুন গাছটা আপনার মানসিক চিন্তা চেতনা। এই গাছে তেমনই ফল ধরবে। ধরুন ফলগুলো ছোট ছোট। তাহলে কি করতে হবে? গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে তবেই না বড় বড় ফল ধরবে। ঠিক সেরকমই। আপনি বাইরে যদি আপনি কোনো পরিবর্তন আনতে চান তাহলে আপনার ভেতরেও পরিবর্তন আনতে হবে। ধনী হওয়ার জন্য আমাদের গরীব বা মধ্যবিত্তের যে মানসিকতা তা পরিবর্তন করতে হবে। সেটা কিভাবে করা যাবে?

সেটা করতে হলে আপনাকে Money Blueprint চিনতে হবে। সেটা হল আপনি টাকার ব্যাপারে কেমন চিন্তা করেন। টাকার ব্যাপারে আপনার ধারণা কি। লেখকের মতে টাকার ব্যাপারে চিন্তাধারা তৈরি হয় তিন ভাবে।

১.Verbal: লোক বা চারপাশের মানুষ থেকে শুনে শুনে। যেমন আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন যে মানুষ বলছে যদি তুমি টাকা ইনকাম করতে চাও তাহলে খুব পরিশ্রম করতে হবে। টাকা কিন্তু গাছে ধরে না।

২. Model: আমরা অন্যকে টাকা কিভাবে খরচ করতে দেখেছি তার উপর নির্ভর করেও টাকার ব্যাপারে ধারণা তৈরি হয়। যেমন আপনি যদি টাকা নিয়ে আপনার মা বাবাকে বারবার ঝগড়া করতে দেখেন তাহলে আপনি ঠিক তাই করা উচিত বলে মনে করবেন।

৩. Incident: বিভিন্ন ঘটনা ক্রমে শেখা। যেমন আইসক্রিম বিক্রেতা দেখে এক ছোট মেয়ে তার মায়ের কাছে বায়না ধরল যে সে আইসক্রিম নিবে। তার মা নিয়ে দিল না। বলল বাবার কাছ থেকে নাও। আমি কোথায় পাব টাকা। সে তার বাবার কাছে গেল এবং তার বাবা তাকে কিনে দিল। পরের বার একই ঘটনা ঘটল মা নিয়ে দিল না কিন্তু তার বাবা নিল। সে তাহলে কি শিখল? সে এটাই শিখল যে মেয়েদের টাকা ইনকামের দরকার নেই টাকা ইনকাম করবে পুরুষরা।

তাহলে এই ধারণাগুলো পরিবর্তন কিভাবে করা যাবে?

লেখক এই পরিবর্তন করার পদ্ধতিটার নাম দিয়েছেন TFAR পদ্ধতি। T হল Thoughts, F হল Feelings, A হল Action, R দিয়ে হল Result আমাদের চিন্তা ভাবনা থেকে আসে অনুভূতি, অনুভূতি থেকে আসে কাজ বা একশন এবং এরপর আসে ফলাফল। তাহলে সবার আগে আমাদের চিন্তাধারা বদলাতে হবে।

তাহলে ধনীরা কিভাবে চিন্তা করেন?

প্রথমত, তারা মনে করে তারা যেমন করবে তার ফলাফল তারা পাবে টাকা উপার্জনের ক্ষেত্রে। এজন্য তারা কাউকে দায়ী মনে করে না। কিন্তু গরীবরা সব ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেয়। তারা তাদের গরীবী হালের জন্য ভাগ্য, সরকার, বিভিন্ন অজুহাত কে দায়ী করে। ধরুন মেয়ে খুজে পাচ্ছেনা কোনো রিলেশনশীপে যাওয়ার জন্য তখন তারা বলবে আরে মেয়ে ভালো ছেলেদের পছন্দ করেনা। আর যদি টাকা ইনকাম করতে না পারে বলবে আরে টাকা গুরুত্বপূর্ণ না বরং ভালোবাসা গুরুত্বপূর্ণ। সত্যি বলতে দুটো জিনিসই গুরুত্বপূর্ণ। দুটো ভিন্ন জিনিস। এদের মধ্যে তুলনা যায় না।

বেশী বেশী অভিযোগ করাও সমস্যা। কারণ এতে আপনার মনযোগ শুধু সমস্যার দিকে থাকে। আর সমস্যাগুলো দিন দিন বাড়তে থাকে। তাই সমস্যা থাকলে তার সমাধান খুজুন।

দ্বিতীয়ত, ধনীরা জেতার জন্য খেলে কিন্তু গরীবরা হেরে না যাওয়ার জন্য খেলেঃ ভেবে দেখুন কথাটা কিন্তু একই ‍শুধু চিন্তা ধারা পার্থক্য। একজন বলছে আমাকে জিততেই হবে। আরেকজন বলছে যেন হেরে না যাই। একজন পজিটিভ ভাবনা নিয়ে শুরু করছে আরেকজন নেগেটিভ।

তৃতীয়ত, ধনীরা অন্য ধনীদের প্রশংসা করে কিন্তু গরীবরা অন্য ধনীদের ঘৃণা করেঃ আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন যে আপনার সঙ্গী একজন ধনীকে দেখে বলছে যে আরে সব অবৈধ টাকা না হলে এত টাকা ইনকাম হয় নাকি যে এত কিছু করবে। এমনটা ভাবা দরকার নেই যে সব ধনীই অবৈধ উপার্জন করে। বরং উচিত হবে তার কাছ থেকে কিছু শিখে নেওয়া।

চতুর্থত, ধনীরা তাদের সমস্যার চেয়ে বড় আর গরিবরা তাদের সমস্যার চেয়ে ছোটঃ এ ব্যাপারটা অনেকটা বড় পাতিলগুলোর মত। গরিবরা মানসিকভাবেই নিজেদের ছোট মনে কর তাই ছোট জিনিসটাই অনেক বড় লাগে। অপরদিকে পাতিলটা আকারে অনেক বড় হলে বড় সমস্যাও ছোট লাগবে।

পঞ্চমত, ধনীরা শিখতেই থাকে আর গরিবরা ভাবে তারা সব জেনে গিয়েছেঃ আপনি যদি একজন ধনীলোক কে একটা বই দিয়ে বলেন এটা আত্ম-উন্নয়নমূলক বই। এটা পড়লে ধনী হওয়ার কেীশল জানা যায়। তারা সাথে সাথে পড়তে বসে যাবে এবং বলবে তারা আরো কিভাবে ধনী হতে পারে বা তাদের কি কি ত্রুটি আছে যা তারা সংশোধন করতে পারে। কিন্তু একজন গরীববে একই বই দিন। সে বলবে আরে এসব আমার জানা আছে। জীবনে কম দেখলাম এসব। আমার শুধু এসব এসব কারণে উন্নতি হচ্ছে না। শুরু হল আবার অভিযোগ বলা।

ষষ্ঠত, ধনীরা ধনী হওয়ার জন্য আনকমফোর্টেবল হতে ভয় পায় না। কিন্তু গরীবরা ভয় পায় রিস্ক নিতে। তারা কোনো মতে একটা ঠিকঠাক জীবন আসা করে। ভয় পাওয়া যাবেনা। ধনী হতে গেলে রিস্কতো নিতেই হবে। টার্গেট লম্বা থাকলে অন্তত তার অর্ধেক পেলেও অনেক। কিন্তু টার্গেট ছোট হলে তাও পাওয়া যায় কিনা সন্দেহ।

তাহলে আর দেরী নয়। কাজে লেগে পড়ুন। আর এই পোস্ট পড়ে উপকৃত হলে তা শেয়ার করতে ভুলবেননা কিন্তু। ধন্যবাদ।

Leave a Comment