কিভাবে সুন্দরভাবে কথা বলা যায়?

আমাদের মধ্যে অনেকের এ সমস্যা আছে যে আমরা সুন্দর ভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারিনা। সেটা চেনা বা অচেনা যার সাথেই হোক না কেন। অচেনা মানুষ হলে অন্য কাউকে বলতে হয় যে প্লিজ আমার কথাটা বলে দেনা। অনেক সময় দেখবেন মোবাইলের সমস্যার জন্য কাস্টমার কেয়ার এ কল দেওয়ার জন্য আমরা অন্য কাউকে কথা বলতে দেই।

গুছিয়ে কথা বলতে না পারাটা যে কোন সময়ের জন্যই সমস্যা। সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারাটা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রমোশন পেতে সুবিধা হয়। গুছিয়ে কথাটা বলাটা আপনাকে ভাইভা বোর্ডেও এগিয়ে রাখবে অন্যদের চেয়ে কারণ সুন্দর ভাবে কথা বলার ক্ষমতাটা আপনার সামনের জনের উপর প্রভাব ফেলবে, আপনার কথা তাদের বুঝতে সহজ হবে। তাই সুন্দর ভাবে গোছালো কথা বলতে পারাটা খুবই জরুরী। কিছু চাকরি আছে যেগুলো শুধু সু্ন্দর ভাবে কথা বলা জন্যই আপনি পাবেন। যেমন কল সেন্টারের কাজ, নিউজ রিপোর্টারের কাজ এসব।

তাহলে কিভাবে আয়ত্ব করবেন এ কৌশল? বেশ, চিন্তার কোনো কারণই নেই। আমাদের আজকের পোস্টে আলোচনাই হল কিভাবে সুন্দরভাবে কথা বলা যায়। তাই আর দেরি নয়। চলুন শুরু করা যাক।

পদ্ধতি ১: তর্ক এড়িয়ে চলুন

সুন্দর ও গোছালো কথা বলার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে তর্ক এড়িয়ে চলা। এনিয়ে একটা মজার ঘটনা রয়েছে। এক রাস্তার মাঝ খানে একটা ইংরজেী 6 নাম্বার রয়েছে। দুই ব্যক্তি দুইপাশ থেকে দেখছে। একজন বলছে এটা ছয় আরেক জন বলছে এটা নয়। এ নিয়ে ঝগড়া। তাই গুরুত্বপূর্ণ কথা হল অপরজন কোন লজিকের উপর ভিত্তি করে বলছে তা দুজনের বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তর্কের মূল কারণ হল অপর পক্ষ কি বলছে তা বোঝার চেষ্টা না করে নিজের টা বলে যাওয়া। এতে কোনো সমাধান হয়না। তবে কিছু তর্ক আছে যা আলোচনার দিকে নিয়ে যায়। যেমন কথা বলার সময় শেষে জানতে চাওয়ার মত প্রশ্ন জুড়ে দেওয়া। তাহলে আপনার সামনের জন তর্কে না গিয়ে আলোচনার দিকে যাবে।

পদ্ধতি ২: অপরজন কি চায় তা বুঝে কথা বলুন

ধরুন আপনি স্ট্রবেরী খেতে পছন্দ করেন। আপনি গেলেন মাছ শিকার করতে। তাহলে কি আপনার স্ট্রবেরী পছন্দ বলে মাছেরও পছন্দ হবে? স্ট্রবেরী দিয়ে মাছ মারবেন? সেটা নিশ্চয়ই সম্ভব নয়। আপনাকে তাই দিয়ে মাছ মারতে হবে যা মাছের পছন্দ। ঠিক তেমনি কারো সাথে সুন্দর ভাবে কথা বলতে চাইলে আপনার যা পছন্দ তা যদি বোঝাতে যান তাহলে ফল উল্টো হবে। আপনাকে আগে তার পছন্দের ব্যাপারেও ভাবতে হবে। তারপর নাহয় আপনারও একটু আধটু বলতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় দুজনের পছন্দ অনুযায়ী কমন একটা আলোচনা বের করা।

পদ্ধতি ৩: শুনুন বেশি, বলুন কম

আমরা প্রত্যেকে নিজের কথা বলতে পছন্দ করি। সমস্যাটা ঠিক এখানে। এজন্য আমাদের আলোচনাটা ঠিক জমে না। জ্ঞানীরা বলে কম শুনে বেশি। অপর দিকে, যারা কথা বলে কম কিন্তু শোনে বেশি তাদের সবাই পছন্দ করে। তাদের সাথে সবাই কথা বলতে পছন্দ করে। ধরুন আপনার বন্ধু আপনাকে বলল জানিস আমি ওই পার্কে ঘুরতে গেছিলাম। এখন আপনি যদি বলেন হ্যা আমিও গেছিলাম। দারুণ সুন্দর জায়গা। আর আলোচনার কিছু থাকে? থাকেনা। কিন্তু আপনি যদি বলেন ওহ! তাই নাকি। তা জায়গাটা কেমন লাগল? কি কি আছে ওখানে? তাহলে বলুন আলোচনা আরো অনেকদুর এগিয়ে যাবে কিনা? অবশ্যই যাবে। আর আপনিও তার পছন্দের ব্যক্তি হয়ে যাবেন।

পদ্ধতি ৪: সুন্দরভাবে মৃদু হাসি দিয়ে কথা শুরু করুন

ধরুন আপনি কারো সাথে কথা বলতে চান কিন্তু সংকোচ বোধ করেন। কথা বলেন না। কিন্তু তিনি যদি আপনার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে দেন তাহলে দেখবেন আপনার মধ্যে কথা বলার সংকোচটা আর নেই। আপনি নিরাপদ বোধ করবেন। এমনটা যদি আপনিও করেন তাহলে আপনার সাথে মানুষ কথা বলতে নিরাপাদ বোধ করবে। যদি আপনি পার্থক্যটা নিজেই দেখতে চান তাহলে একদিন সকালে উঠে মনস্থির করুন যে আজ আপনি যাদের সাথেই কথা বলবেন আপনার মুখে একটা জেন্টেল হাসি থাকবে। দিন শেষে ভাবুন যে আজ অন্য দিনের তুলনায় কি পার্থক্য পেলেন। অবশ্যই দিনটা অন্যদিনের তুলনায় ভালো যাবে।

পদ্ধতি ৫: ট্রেন্ডিং বা পার্থক্য নিয়ে কথা বলুন

ধরুন আলোচনার বিশেষ কোনো টপিক নেই। তাহলে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া পদ্ধতি হল বর্তমানে কোনো বিষয় খুব আলোচিত হচ্ছে এমন বিষয় নিয়ে কথা বলা। তাহলে দুপক্ষই আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন। যদি আপনার সাথের ব্যক্তি অপরিচিত হয় তাহলে ভিন্ন ধর্মী আলোচনা করতে পারেন। যেমন ওই দিনের আবহাওয়া, সামনে ঘটা কোনো জিনিস ইত্যাদি।

তাহলে সুন্দর ও গোছালো কথা বলার এই পদ্ধতিগুলো পালন শুরু করে ‍দিন আর হয়ে উঠুন একজন সবার পছন্দের মানুষ। হয়ে উঠুন আকর্ষণীয়। পোস্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার বন্ধদের মাঝে। ধন্যবাদ।

Leave a Comment