কীভাবে ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠবেন?

সকালে ঘুম থেকে ওঠা যেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জয় করার সমান। কোনদিন যদি ঘুম ভেঙেও যায় আর পাঁচ মিনিট ঘুমিয়ে নেই বলার পর জেগে ওঠার পর দেখা যায় পাঁচ মিনিট আর পাঁচ মিনিট নেই, পেরিয়ে গেছে প্রায় ঘণ্টাখানেক। আর শুরু হয় না সমস্যা। সকালের প্রস্তুতিটা নিতে পারলাম না, ক্লাসে বা প্রাইভেটে যেতে দেরী, অফিসে যেতে দেরী আরো নানা সমস্যা।

ধরুন এটা শিশুকে জন্মগ্রহণ করার পর থে্কেই যদি সবাই গালি দেওয়া শুরু করে তাহলে সে বড় হয়ে কি হতে পারে বলে আপনার মনে হয়? সকালটাও ঠিক তেমনি। সকালে উঠেই যদি বসকে গালি দিতে হয়, নিজেকে গালি দিতে হয়, সবকিছু নিয়ে অভিযোগ শুরু হয় তাহলে নিগেটিভ ডিরেকশনে দিনের শুরুটা শুরু হলে সারাদিনে আপনার নিজের কাছ থেকে আপনি কি পজিটিভ ফিডবেক আশা করেন?

আপনি হয়তো বলতে পারেন যে ভাই তুমি আমার অবস্থায় থাকলে তোমার মুখ থেকেও গালাগালিই বেরিয়ে আসতো। তাহলে চলুন একটা সত্য ঘটনা দিয়ে আলোচনা শুরু করা যাক। এক তরুণ যার বয়স ২০ বছরের চেয়ে একটু বেশি। সে মাত্রই তার ক্যারিয়ার শুরু করেছে। তাকে এক অচেনা লোক মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে এসে ধাক্কা মারে। যার পর ৬ মিনিটের জন্য ছেলেটির হৃদস্পন্দন পাওয়া যাচ্ছিলনা। পরের ৬ দিন সে কোমাতে ছিল। তার শরীরে মোট ১১ টা হাড় ভেঙে যায় এবং একটা স্থায়ী ব্রেন ডেমেজ হয়। যেটা দেখে ডাক্তাররা বলেন যে সে হয়তো আর কোনো দিনও হাটাচলা করতে পারবে না। আপনার জীবনের অবস্থা কি এই ছেলেটির থেকেও খারাপ?

এই ছেলেটির নাম হেল এলরড। এই ঘটনার পর হেল এলরড শুধু হাটতেই নয় বরং ৫২ মাইল ম্যারাথন এ দৌড় প্রতিযোগীও হয়ে ওঠে। যার পুরো টাকা সে দান করে দেয়। তিনি শুরু ম্যারাথন দৌড়ের ক্ষান্ত দেন নি। এরপর তিনি অর্জন করেছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরষ্কার। যেমন,

  1. Hall of Fame business achiever
  2. International keynote speaker
  3. Success coach
  4. Hip Hop Artist
  5. Multiple times #1 best-selling Author

ভেবে দেখুন কোন অবস্থা থেকে তিনি কোথায় উঠেছেন। সাফল্যের শিখরে। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হল সম্প্রতি তার ক্যান্সার ধরা পরেছে। এত কিছুর পরও তিনি লড়াই করেই যাচ্ছেন। তার সেরা বই The Miracle Morning থেকে জেনে নিই কিছু অভ্যাস যা অনুসরণ করে তিনি এবং আরো লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের জীবনে সাফল্য এনেছেন, ঘটিয়েছেন মিরাকেল।

অভ্যাস ১: Can’t Change It (যা বদলাতে পারবোনা): এই ক্ষেত্রে পাওয়া শিক্ষা সমন্ধে লেখক বলেছেন যে এটি এক্সিডেন্ট এর পরে তাকে খুবই সাহায্য করেছিল। যা তিনি A B C of Life হিসেবে উল্লেখ করেছেন। A = Accept (মেনে নেওয়া), B = Be Grateful (কৃতজ্ঞ হওয়া), C = continue progressing (জীবনে এগিয়ে যাওয়া) । ধরুন আপনি জ্যামে আটকা পরেছেন। জ্যামে আটকা পরলে দেখা যায় সবাই হর্ণ বাজাতে থাকে। হর্ণ বাজালে কি সামনের গাড়ি গুলো সরে গিয়ে আপনাকে জায়গা দিতে পারবে? পারবেনা। তাহলে না বাজানোই ভালো। আর এজন্য দেরী হবে, বস বকবে সহ নানা চিন্তা। চিন্তা করে লাভ আছে। আপনি চাইলেই তো আর এখন সব ঠিক করে ফেলতে পারবেন না। অর্থ্যাৎ আপনি যা পরিবর্তন করতেই পারবেন না আর, কোন সুযোগই নেই। তাহলে তা মেনে নিন।আর আপনার জীবনে যা ভালো আছে তা নিয়ে কৃতজ্ঞ থাকুন। এবং যা বদ অভ্যাস আছে সেগুলোর মধ্যে যা কষ্ট হলেও বদলানো যাবে তা বদলাতে থাকুন। আর তা নিয়েই এগিয়ে যান।

অভ্যাস ২: S.A.V.E.R.S হেল এলরডের জীবনে দুটি বড় দুর্যোগ এসেছিল। যার মধ্যে একটি হল গাড়ি দূর্ঘটনা যা তিনি অভ্যাস ১ এ বর্ণিত উপায় কাজে লাগিয়ে সমস্যা কাটিয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ঘটনা টি হল ২০০৭ সালের ইকোনোমিক কলাপ্স। তিনি তখন International keynote speaker হিসেবে সাফল্য লাভ করেছিলেন। তার ছিল বাড়ি, গাড়ি, আর অনেক ব্যবসায়িক ক্লায়েন্ট। ইকোনোমিক কলাপ্সের জন্য তাকে সব বিক্রি করতে হয়। তিনি অনেক ক্ষতির মধ্যে পরেন। আত্বহত্যার চিন্তাও করেন। কারণ তিনি সব হারিয়ে পথে বসে গেছেন। তার বউ তাকে একদিন বলে যে তুমি তোমার বন্ধু জনের সাথে একবার কথা বলছো না কেন? জন একজন সেরা ব্যবসায়ী ছিলেন। হল এলরড যখন তাকে সব খুলে বলেন জন তাকে তখন শুধু একটা কথাই বলেন ভাই তুই নিয়মিত ব্যায়াম করছিসতো?

হেল রেগে যান। বলেন কি সব বলছিস আমার টাকা লাগে। ব্যায়াম আমাকে টাকা দেবে? জন বলেন ব্যায়াম না করলে মস্তিষ্কে বিশুদ্ধ অক্সিজেন যাবে কি করে? ভালো চিন্তা করবি কিভাবে? বাসায় বসে দুশ্চিন্তা করলে টাকা আসবে? হেল এলরড থমকে যান। তার ভাবনাই বদলে যায়। তার মাথায় নতুন বুদ্ধি খেলে যায়।

তিনি এরপর রিসার্চ করে জানতে পারেন বেশির ভাগ সফল লোকেরা সকালে উঠে S = Silence (মেডিটেশন বা শ্বাসের ব্যায়াম) , A = Affirmation ( আপনার মধ্যে যা ভালো আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকা), V = Visualization (আপনার স্বপ্ন ও লক্ষ্যগুলো ভাবা) , E = Exercise )(যে কোন ধরণের সাধারণ ব্যায়াম করা) , R = Reading (ভালো কোনো বই পড়া/কুরআন তিলওয়াত মুসলমানদের জন্য উত্তম হবে), S = Scribing (স্বপ্ন ও লক্ষ্যগুলো কাগজে লিখার প্রাক্টিস করা) এর মধ্যে কোনো না কোনো একটার প্র্যাকটিস করেনই। পরে তিনি ভাবলেন করতেই যখন হবে তাহলে ৬ টাই একসাথে করি। ধীরে ধীরে তার ইনকাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। এসব তার ইনকাম বাড়ায় নি তবে ইনকাম বাড়ানোর জন্য যে রকম মানসীক ও শারীরিক অবস্থা থাকা দরকার তা বাড়িয়ে ছিল। ফলে ইনকামও বেড়েছে।

তাই আজ থেকে প্রতিদিন যে সময়ে বকাঝকা খেয়ে উঠতেন তার চেয়ে আধা ঘণ্টা হলেও আগে উঠুন আর প্রাক্টিস করুন এই ভালো অভ্যাসগুলো। এছাড়া ভালো অভ্যাস দীর্ঘস্থায়ীভাবে আয়ত্বের কৌশলগুলো নিয়েও আমাদের পোস্ট আছে তা পড়ে নিতে পারেন। The Miracle Morning বইটির বাংলা পিডিএফ ডাউনলোড নিয়েও খুব শীঘ্রই পোস্ট আসবে। আপনারা বইটি ডাউনলোড করে পড়তেও পারবেন। ভালো থাকুন সবসময়। পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন

কীভাবে প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করবেন?

কীভাবে অলসতা দুর করবেন খুব সহজেই

মোবাইল ফোনের আসক্তি কমানোর উপায়

কোটিপতি ওয়ারেন বাফেট এর কিছু জীবন বদলে দেওয়া মূল্যবান উপদেশ

Leave a Comment