চাপমুক্ত দৈনন্দিন রুটিন তৈরি করবেন যেভাবে।

পারফেক্ট একটা রুটিন বদলে দিতে পারে আপনার জীবন, নিয়ে যেতে পারে সফলদের কাতারে। কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় কিভাবে রুটিন করবো, কোন আগে করবো কোনটা পরে করবো কিংবা কোনটা বাদ দিবো তা নিয়ে। ঠিক এসব সমস্যার সমাধান ও সুন্দর একটা রুটিন কিভাবে তৈরি করা যায় তা নিয়েই আমাদের আজকের এ পোস্ট। তো ধৈর্য নিয়ে পড়ে ফেলুন আর জেনে নিন পারফেক্ট একটা রুটিন তৈরির গোপন রহস্যগুলো।

প্রথমেই একটা উদাহারণ দিয়ে শুরু করা যাক। ধরুন আপনাকে এক গ্লাস পানি দিয়ে বলা হল এই গ্লাসটার ওজন কত? হয়ত বলে দিলেন কিছু একটা। কিন্তু আপনাকে কি বলা হয়েছে কতক্ষণ ধরে রাখতে হবে? বলা হয় নি। রহস্যটা এখানেই। প্রথম কিছুক্ষণ ধরে রাখতে পারলেও ধীরে ধীরে তা বোঝা হয়ে যাবে আপনার জন্য। তাহলে বোঝা থেকে বাচাঁর উপায় হল কিছুক্ষণ পরপর গ্লাসটা নামিয়ে রাখা। আমাদের জীবনে সমস্যা, চাপ এসব থাকেই। কিন্তু তারপরও চিন্তাগুলোকে সরিয়ে নিজেকে হালকা করে বা রিফ্রেশ করে নেওয়া প্রয়োজন। না হলে এই ছোট সমস্যাগুলোই একসময় বড় সমস্যা হয়ে দাড়াবে।

এখন প্রশ্ন হতে পারে যে এই সমস্যাগুলো মাথা থেকে নামাবো কি করে? আমরা  এ সমস্যাগুলো মাথা থেকে নামানোর আলোচনা করবো  Mark Mckeon এর বই Get in the Go Zone থেকে। লেখক এই বইয়ে বলেছেন আপনাকে শুধু টাইম মেনেজ করলেই চলবেনা বরং টাইম ক্রিয়েট করতে হবে। তিনি বলেছেন পুরো দিনটাকে তিনটা জোনে ভাগ করতে।

১. Go Zone

২. No Zone

৩. Slow Zone

আসুন আলোচনা করা যাক এই জোনগুলোর বিস্তারিত।

১. Go Zone: আমাদের প্রত্যেকের এমন সব সময় আছে যখন আমাদের কাজের প্রতি গভীর মনযোগ আসে। কেউ আছে সকালে, কেউ সন্ধ্যায়, কেউবা রাতে মনযোগ দিয়ে কাজ করতে পারে। ঠিক যার যে সময়টাতে কাজ করার আগ্রহ বাড়ে এবং কাজে মনযোগ বসে সেই সময়টাই হল তার Go Zone.  লেখক প্রত্যেককে দিনে সর্বনিম্ন ২ ঘণ্টা কাটাতে বলেছেন। অর্থ্যাৎ অন্তত ২ ঘণ্টা মনযোগ দিয়ে কাজ করবেন। এখানেও একটা মানসিক ফাঁদ রয়েছে। সেটা হল একসাথে একাধিক কাজ করা। এটাকে বলে মাল্টিটাস্কিং। এটা শুধু কম্পিউটারের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। বাস্তব জগতে এর কোন স্থান নেই। তাই একসাথে একাধিক কাজ করবেন না। আর এই জোনের আরেক শর্ত হল এসময় কোনো মোবাইল বা টিভিদেখা বা মনযোগে বিঘ্ন ঘটে এমন কাজ করা যাবেনা। শুধু কাজটা করে যেতে হবে যে কাজটা আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একসাথে অধিক কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলে একটা শেষ করে তবেই আরেকটা করতে হবে।

২. No Zone: এ জোন আসবে Go Zone এর আগেই। এই জোনের কাজ হল গো জোনের উল্টো। এ সময় কোনো কাজ নয়, এমনকি কাজের কথা ভাবাও নয়। এসময় আপনার কাজ হল নিজেকে রিফ্রেশ করা। যেমন মেডিটেশন করা, স্লো মিউজিক শোনা এসব। যেন আপনার মন ভালো হয়ে যায়। সময় কিন্তু ১ ঘণ্টা।

৩. Slow Zone: এই জোন হল মানুষের জন্মগত ভাবেই পাওয়া। যেসময় আপনি এক্টিভও থাকেন না আবার বসেও থাকেন না। অর্থ্যাৎ কাজ থাকলে ধীরে ধীরে করলেন না থাকলে রেস্ট নিলেন। অনেকটা দুপুরের খাবার পর যেমনটা হয়। কেউ ঘুমিয়ে নেয়, কেউ টিভি দেখে, কেউ কাজ গুলো গুছিয়ে নেয়। এই জোন ৫-৬ ঘণ্টা লম্বাও হতে পারে।

তবে মনে রাখতে যে তিনটা জোন গুলিয়ে ফেলা যাবেনা। আপনাকে অবশ্যই জোনগুলোর নিয়ম ও সীমারেখা মেনে চলতে হবে। আর হয়তো আপনি ভাবছেন সব জানা শেষ আজ থেকেই শুরু। তাহলে দেখবেন আপনি পারবেন না। এটা প্রাক্টিসের বিষয়। এটাকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলতে হবে।

এই তিনটি জোনকে আপনার রুটিন বানিয়ে নিন। গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে গো জোনে একের পর এক করে ফেলুন, স্লো জোনে ইচ্ছে মত চলুন । গো জোনে যাবার আগে অবশ্যই নো জোনে নিজেকে রিফ্রেশ করে নিন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন মোটিভেশন কেন বেশীদিন টিকে থাকে না?

জেনে নিন ভালো অভ্যাস আয়ত্বের কার্যকর কৌশল

প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠার কার্যকর উপায়

Leave a Comment