কিভাবে নিজের হাতের লেখা সুন্দর করবেন?

কিভাবে নিজের হাতের লেখা সুন্দর করবেন? আচ্ছা আপনার সাথে এমন কতবার হয়েছে যে পরীক্ষা খুবই ভালো দিয়েছেন তারপরও কম নাম্বার পেয়েছেন? যদি আপনার হাতের লেখা খারাপ হয় তাহলে আপনার সাথে এমনটা হওয়া খুব স্বাভাবিক। আমাদের হাতের লেখা খারাপ হলে যতই ভালো লিখিনা কেন শুধু হাতের লেখাটার জন্য খাতাটাই দেখতে খারাপ লাগে আর এই খারাপ লাগাটা একজন শিক্ষককেও প্রভাবিত করে। এমন খারাপ হাতের লেখার জন্য উনারা প্রথমেই যে লিখেছে তার সমন্ধে একটা খারাপ ধারণা নিয়ে নেন।

শুধু কি তাই? মাঝে মধ্যে আপনার পরিচিত কেউ বলেই বসতে পারে আমাকে এইটুকু একটু লিখে দাও। তখন বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। কারো হাতের লেখা এত খারাপ আছে যে তাড়াহুড়ো করে লিখে বাসায় গিয়ে নিজেই বুঝতে পারেনা যে কি লিখেছিল। তাহলে এর সমাধান কি? কিভাবে খুব সহজে আপনার হাতের লেখা ভালো করবেন? চিন্তার কারণ নেই, ৫টি নতুন ধারণা দিচ্ছি। লেখার সময় তা শুধু মনে রাখবেন। ব্যাস, হয়ে গেল। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

রুলস ১: প্যাচানো হাতের লেখাঃ আপনার হাতের লেখা যদি খারাপ হয়ে থাকে তাহলে প্যাচানো বা মিক্স করে লেখার দরকার নেই। কারণ এ হাতের লেখাটা দেখতে সুন্দর লাগলেও তা লেখায় যারা দক্ষ সেটা শুধু তাদের জন্য। একটার অক্ষরের সাথে আরেকটা অক্ষর লাগিয়ে রাখার এ স্টাইল লিখতে গেলে আপনার খারাপ হাতের লিখা আরো খারাপ লাগবে। তাই নরমাল স্টাইলেই লিখুন। মোবাইলের ইংরেজী অক্ষর গুলো দেখুন। সেগুলো কিন্তু লাগানো নয়। তারপরও কিন্তু দেখতে সুন্দর লাগে। তাই প্রথম অবস্থায় সেগুলোই ফলো করুন।

রুলস ২: অক্ষর ও শব্দগুলোর মাঝের ফাঁকাগুলো লক্ষ করুনঃ লেখার সময় লক্ষ করুন যে দুটি অক্ষরের মাঝে যে খুবই অল্প ফাকা রাখছেন তা যেন সবখানেই সমান হয়। আর দুটি শব্দের মাঝে যতটুকু ফাকা রাখছেন প্রতিটি শব্দের মাঝে যেন সমান ফাকা বজায় থাকে। এই অংশটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে কয়েকদিন কষ্ট হবে। তারপর দেখবেন হাতের লেখাটা কেমন সুন্দর হয়ে গেল।

রুলস ৩: Round Curves স্টাইলে লেখাঃ আপনার যখন অক্ষরগুলো প্যাচানো ছাড়া এবং ফাকা দেওয়াটা ঠিক হয়ে গেল তারা Round Curves স্টাইলে লেখার প্র্যাকটিস করতে পারেন। কারণ জিনেটিকগত কারণেই দেখা গেছে মানুষ রাউন্ড জাতীয় জিনিস দেখতে পছন্দ করে।

রুলস ৪: কলমটাকে শক্ত করে ধরে লিখবেন নাঃ সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হল এটি। শুধু শক্ত করে ধরে রাখার জন্যও অনেকের হাতের লেখা খারাপ হয়। কলমটাকে আলতো করে ধরুন। আর শক্ত করে ধরলে আপনার হাতের আঙুল ব্যাথা হয়ে যায়। এমনভাবে কলমটাকে ধরুন যেন তিন আঙুলের উপর সমান চাপ পড়ে।

রুলস ৫: লেখার লাইন সোজা করুনঃ আপনার মনে হতে পারে যে এটাতো জানিই। আমি কিন্তু সেটা বলছি না। আমি বলতে চাচ্ছি এই সোজাটা করবেন খুব সহজে কিভাবে। এর সহজ সমাধান হল ঠিকভাবে মার্জিন টানা। যদি আপনি মার্জিন বামে ও উপরে সমানভাবে ও সোজাভাবে দিতে পারেন। ওই লাইনগুলো ফলো করে আপনি সহজেই হাতের লাইনগুলো সোজা রাখতে পারেন।

সর্বোপরি, প্রাকটিসের বিকল্প নেই। কোনো সাফল্যই হেটে এসে ধরা দেবে না পরিশ্রম ছাড়া। রুলসগুলো কাজে লাগান হয়ে উঠুন সুন্দর হাতের লেখার গর্বিত মালিক। আপনার জন্য অনেক শুভ কামনা।

ধন্যবাদ।

Leave a Comment