কীভাবে প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করবেন?

কীভাবে প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করবেন?

আমরা প্রতিদিন ঘুমানোর আগে প্রতিদিন চিন্তা করি যে কালকের ‍দিনটা সবচেয়ে সেরা দিন বানাবো। কালকে এত পড়াশোনা আর কাজ করবো যে দিনটা দূর্দান্ত যাবে। কাল থেকে বদলে যাবো একেবারে। কিন্তু কাল কি হয়? যা চিন্তা করা হয়েছিল তার কিছুই করা হয় না। অর্থ্যাৎ আরেকটা বোরিং দিন। সেই রাতে আবার চিন্তা হয় যে আজ কি হল তা তো হলই পরের দিন থেকে খুব সিরিয়াস হব। কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠে না। কিন্তু কেন? কি করলে প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করা যাবে? ঠিক তারই সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করা যাবে। আর এক্ষেত্রে আমরা সাহায্য নেব বিখ্যাত লেখক David Allen এর বই Getting Things Done থেকে।

Read More: কীভাবে অলসতা দুর করবেন খুব সহজেই

এর সমাধানে কিছু কম্পিউটার ভিত্তিক আলোচনাও আছে। আমরা জানি কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে আমরা বিভিন্ন তথ্য জমা রাখি। আর কোনো কাজ প্রসেসিং এর রেম সাহায্য করে। যদি একসাথে অনেকগুলো এপ্লিকেশন চালু করা হয় তাহলে কাজের গতি ধীরে হয়ে যায়। আমাদের মস্তিষ্ক অনেকটা এরকমই এখানে তথ্য জমা রাখা যায় আবার মস্তিষ্ক কাজ করায়ও সাহায্য করে। তাহলে একসাথে অনেক কাজ করা শুরু করলে কি হবে? আপনার কাজের গতি ধীরে হয়ে যাবে। আপনি সময়মত সব কাজ শেষ করতে পারবেন না।

সকালে উঠেই আমরা সবকাজ খুলে বসি। নিউজ দেখা, ফেসবুক ওপেন করা, বন্ধুকে মেসেজ করা, কি কি পড়তে হবে আজ, কি কি কাজ করতে হবে, কোথায় যেতে হবে সব চিন্তা শুরু করে দেই। এসব থেকে বাচাঁর উপায় কি? এ থেকে বাঁচার উপায়  হল নতুন এক পদ্ধতি অনুসরণ করা। সেটা হল GTD সিস্টেম। যার পুরো অর্থ হল Getting Things Done. এই পদ্ধতিটি ৫ টি ভাগে কাজ করে।

প্রথম পদ্ধতি – সংগ্রহঃ সকালে উঠে আপনার যত কাজ বা কাজের চিন্তা রয়েছে। তা লিখে ফেলুন কোন কাগজে বা আপনার মোবাইলে। আজ বা আগামিকালের যত কাজ। যেন আপনার মনে হয় যে আজ আমার যত কাজ আছে তা আর এক এক করে ভাবার দরকার নেই। লিস্ট দেখে কাজ করবো।

দ্বিতীয় পদ্ধতি- পরিকল্পনা এগিয়ে রাখাঃ এবার আপনার কাজ হল যে কাজগুলো আপনি লিখে রেখেছেন তা দেখা এবং কাজটা কিভাবে করবেন তার এক সম্ভাব্য সমাধান লিখে রাখা। যেমন ধরুন আপনার প্রথম কাজ হল আপনার প্রিয় কাউকে জন্মদিনের উইশ করা। তাহলে এর সমাধান কি? সমাধান হল যখন আপনি উইশ করতে চান তার এক মিনিট আগে এলার্ম বা রিমাইন্ডার দিয়ে রাখা। ব্যস, আপনার তার চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হবে না।

Read Also: মোবাইল ফোনের আসক্তি কমানোর উপায়

তৃতীয় পদ্ধতি – সাজানোঃ আপনি লিস্ট বানালেন এবং সমাধানের একটা করে সম্ভাব্য উপায়ও লিখে রাখলেন। তারপরে সমস্যা হবে কোনটা আগে বা কোনটা পরে করবেন। তবে ইতোমধ্যে আপনার ধারণা হয়ে গেছে কোন কাজে কত সময় লাগবে আর কোনটা আগে আর কোনটা পরে করবেন। তাই আর দেরী নয়। কাজ গুলো সাজিয়ে নিন কোনটা আগে আর কোনটা পরে করবেন।

চতুর্থ পদ্ধতি – রিভিউঃ এবার রিভিউ এর পালা। অর্থ্যাৎ আরেকবার ভেবে দেখা যে কোন সমস্যা বাদ পরলো কিনা আর যে সমস্যাগুলোর সম্ভাব্য সমাধান লিখেছেন তার আর কোন ভালো উপায় আছে কিনা। শুনতে যেমনি লাগুক প্রতিটি পদ্ধতিতে আপনার মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিট করে লাগতে পারে।

পঞ্চম পদ্ধতি – কাজ শুরু করে দিনঃ আপনি লিস্ট বানালেন। সমস্যার সমাধানের উপায় খুজে বার করলেন। সব সাজালেন। তারপরও একটা বড় সমস্যা থেকে যায় আর তা হল যদি আপনি বলেন একটু ফেসবুকটা ব্রাউজ করে নেই তারপর লিস্ট দেখে কাজ শুরু করছি। দেখবেন একটু সময় আপনার কত সময় কেড়ে নেয়। আবার আপনার মনে হতে পারে। আরে যে কাজটা করতে আমি ৩০ মিনিট ধরে রাখছি তা আমার ২০ মিনিট লাগবে। ১০ মিনিট বেশি পেলাম। সেগুলো খরচ করে নেই। ব্যস শুরু হয়ে গেল। তাই এক কাজ করুন, কাজ শুরু করেই দিন। কাজ শেষ করে সময় থাকলে তখন না হয় আড্ডা দেবেন।

উপরের পদ্ধতি গুলো খুবই উপকারী ও কাজের। বিশ্বাস না হলে শুধু তিন দিনের জন্য হলেও পালন করে দেখুন দেখবেন আপনি কত উপকৃত হচ্ছেন। আপনার সামনের ‍দিনগুলো শুভ হোক।

পোস্টটি আপনার উপকারে আসলে বন্ধুদের কাছে শেয়ার করবেন আশা করছি। ধন্যবাদ।

Leave a Comment