মোবাইল ফোনের আসক্তি কমানোর উপায়

আমাদের অনেকেরই এ অভ্যাস আছে যে পড়তে বসলেই ঘুম পায় নাহলে মোবাইল ফোন চালানো শুরু হয়ে যায়। পড়তে বসলে ঘুম আসে এটা একটু কম হলেও মোবাইল হাতে নেওয়া যেন সাধারণ অভ্যাস হয়ে দাড়িয়েছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে নিজে জানি যে বেশি মোবাইল ব্যবহার করা ক্ষতিকর বা সময় নষ্ট হয় বেশি তবুও মোবাইল ব্যবহার কমাতে পারছিনা। আমাদের মধ্যে প্রায় সবাই যদি চিন্তা করি যে একটা দিন মোবাইল ছাড়া থাকবো। সারাদিন মোবাইল হাতে নিবো না। দেখবেন অসম্ভব মনে হবে। যদি সবগুলো কথাই আপনার সাথে মিলে যাচ্ছে তাহলে মেনে নিন আপনি নোমোফোবিয়া নামক সমস্যায় ভুগছেন।

তাহলে আলোচনা করা যাক নোমোফোবিয়া কি তা নিয়ে। নোমোফোবিয়া হল নিজের স্মার্ট ফোন থেকে দুরে থাকার ভয়। আসক্ততা জিনিসটা কি? আমরা ধূমপান, মদ্যপান সহ বিভিন্ন আসক্তির কথা জানি। আসক্ততা হল সেটা যা অভ্যাস হয়ে দাড়িয়েছে আর আপনার জীবন কন্ট্রোল করা শুরু করেছে। আর সেটার জন্য আপনার দৈনন্দিন জীবন, বিভিন্ন রকম সামাজিক সম্পর্কের উপর খারাপ প্রভাব পড়তে শুরু করে। এক গবেষণা থেকে জানা যায় যে, মোবাইল ফোনে আসক্ত মানুষ সারাদিনে ১১৫ বার বা তার চেয়ে বেশি বার তার মোবাইল হাতে নেয় চেক করার জন্য। অর্থ্যাৎ প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫ বার। যদি আপনার সাথে তা মিলে যায় তাহলে ধরে নিতে পারেন যে আপনি মোবাইল ফোনে আসক্ত আর আপনার নোমোফোবিয়া আছে।

যদি এমন হয় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময়, খাওয়ার সময়, খেলার সময় বিশেষ করে ঘুম থেকে উঠে সবার আগে মোবাইল চেক করে দেখেন তাহলে আপনার সময় এসে গেছে মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে বের হওয়ার। আপনি ভয়াবহভাবে নোমোফোবিয়ায় ভুগছেন।

মোবাইল ফোসের আসক্তি আপনার কাজ করার উদ্যম কমিয়ে দেবে। তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে যাবেন, কাজে মনযোগ ধরে রাখতে পারবেন না। সর্বোপরী, আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি তো হবেই। অনেকতো হলো সমস্যা খুজে বের করা। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আজকে আমরা আলোচনা করবো মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে কিভাবে বের হওয়া যাবে তা থেকে বের হওয়ার কিছু সহজ ও কার্যকরী উপায়। তাহলে চলুন সমাধানের আলোচনা শুরু করা যাক।

এ সমস্যার সমাধান বের করার জন্য প্রথমেই আমাদের জানা প্রয়োজন যে কি কি কারণে আমরা মোবাইল ফোনের আসক্তিতে পরি। আর তারপর সে কারণগুলোর সমাধান খুজে বের করবো সহজ ও কার্যকর উপায়ে।

মোবাইল ফোন আসক্তির প্রথম কারণ সহজ এন্টারটেইনমেন্টঃ মোবাইল ফোন ওজনে হালকা। সহজে চালানো যায় দাড়িয়ে, বসে বা শুয়ে। আর ইদানিং ওয়াইফাই পাওয়া যায় সবখানেই। শুধুমাত্র কয়েকটা ক্লিকে আমরা দুনিয়ার হাজারো ইন্টারটেইনমেন্ট এর জিনিস পেয়ে যাচ্ছি। আর একবার দেখতে শুরু হলে তা আর শেষ হয় না। তাই আসক্ত হওয়া স্বাভাবিক। তখন তা উপকারের বদলে তা আমাদের ক্ষতি করতে শুরু করে। পড়তে পড়তে দেখে নিলাম কে হোয়াটসএপে কি দিল আর কে নতুন মিম দিলো ফেসবুকে। আর একটা থেকে শুরু হল ৫ টা। তাই এসবের মধ্যে লিমিট নিয়ে আসতে হবে।

মোবাইল ফোন আসক্তির দ্বিতীয় কারণ ভুল জিনিসকে জরুরী মনে করাঃ সকালে উঠেই আমরা প্রত্রিকা পড়ি মোবাইলে যে কি হয়ে গেল দেশে। কিংবা চেক করি নতুন করে কে কি বলল। দেখুন সরকারের কোন মন্ত্রী কি বলল তা নিয়ে আপনার তেমন কিছু যায় আসে না। তা আপনি দেখলেও যা হবে না দেখলেও তাই হবে তাহলে কি দরকার দিনের শুরুটা ওসব দিয়ে শুরু করতে। আপনিই বলুন ইদানিং পত্রিকায় ভালো খবরের চেয়ে খারাপ খবর বেশী থাকে কিনা? তাহলে দিনটা খারাপ দিয়েই শুরু করলে তা আপনার কাজে ও মনযোগে খারাপ প্রভাব ফেলবে। আপনার জন্য যা জরুরী তা তো আপনার জানাই আছে। তাহলে যা জরুরী নয় তা জোর করে জরুরী বানানোর তো কোনো প্রয়োজন নেই।

মোবাইল ফোন আসক্তির তৃতীয় কারণ – কাজে পেশন না থাকাঃ যে কাজটা করছেন তাতে আপনার আগ্রহ থাকতে হবে। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজ যদিও তাতে পেশন নেই তবুও আমাদের করতে হয়ে। আমরা একটুতেই বিরক্ত হয়ে যাই। কাজটা তবুও না করে পাশে রাখা মোবাইল টা হাতে নিয়ে ভাবি যে দেখি মজার কিছু ভিডিও আছে কিনা। দেখে আবার কাজ করি। হয়তো এভাবে কাজও হবে। কিন্তু একটা খারাপ জিনিস (মোবাইল আসক্তি) দিয়ে কেন আমাদের বোরিংনেস কাটাতে হবে? আর কি সমাধান নেই?

চলুন জেনে নেই আমাদের মোবাইল আসক্তির কারণ গুলোর সহজ সমাধানঃ

সমাধান ১: দিনের কিছু সময় মোবাইল ব্যবহার না করাঃ গবেষণায় প্রমাণিত যে ঘুম থেকে ওঠার পরের তিন ঘণ্টা আমাদের মনযোগ খুব ভালো থাকে। কাজ খুব দ্রুত হয়। তাই ঘুম থেকে ওঠার পরের তিন ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার করা বন্ধ করে দিন। মোবাইল টা চোখের সামনে থেকে দুরে রেখে ‍দিন। তবে বন্ধ করে বা সাইলেন্ট করে রাখবেন না নাহলে আপনার মনযোগ আরো খারাপ হবে। মনে হবে কি যে হয়ে গেল কোথায়। যদিও আমরা কোনো বিজনেস মেগনেট নই যে তিন ঘণ্টা মোবাইল না চাপলে কয়েক মিলিয়ন টাকা লস হয়ে যাবে।

সমাধান ২: পেশন কে অনুসরণ করাঃ আমাদের জীবনে পেশন নেই বলে মোবাইল আসক্তি বেড়ে যায়। যখন কাজের প্রতি আমাদের ভালোবাসা থাকবে, আমাদের মনযোগ তখন কাজের দিকে থাকবে বেশি। আর কাজের প্রতি পেশন বা আগ্রহ না থাকলে মোবাইল ফোনের ইন্টারনেটের দিকে মনযোগ বেশি যাবে। তাই নিজের কোন কাজের প্রতি পেশন আছে তা খুজে বের করুন এবং কাজে লাগান। জীবনটা আপনার। এখন কাজে লাগালে বৃদ্ধ বয়সে তা আপনার কাজে আসবে আরো বেশি।

পোস্ট টি ভালো লাগলে তা আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন আশা রাখছি। ধন্যবাদ। সাথে থাকুন www.careerhelpbd.com (ক্যারিয়ার হেল্প বিডি) এর সাথে।

Leave a Comment