জেনে নিন সফল ব্যাক্তিদের সাতটি অভ্যাস

যদি আপনার মনে হয় স্বাস্থ্য, পড়ালেখা, সম্পর্ক সব দিক দিয়ে আপনার অবনতি হচ্ছে আর আপনার মনে হচ্ছে খুব দ্রুতই আপনার নিজের মাঝে পরিবর্তন নিয়ে আসা দরকার কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন তা খুজে পাচ্ছেন না তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। আমাদের আজকের পোস্টে আলোচনা হবে Stephen R. Covey এর লেখা বিখ্যাত বই The 7 Habits of Highly Effective People থেকে সফল ব্যক্তিদের সাতটি অভ্যাস নিয়ে যা আয়ত্ব করে তারা সফল হয়েছেন।

তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক সফল মানুষদের সাতটি অভ্যাস।

অভ্যাস ১. Proactive হোনঃ এ পৃথিবীতে দুই ধরণের মানুষ থাকে। এক. Proactive দুই. Reactive রিয়েক্টিভ মানুষ তারাই যারা সব সমস্যাতেই অন্যের দোষ খুজে পায়। সবসময় অজুহাত দেয় যে ওর জন্য আমার এটা হল, সরকারই এজন্য দায়ী, শিক্ষক ভালো মত খাতা দেখেনি বলে নাম্বার কম পেয়েছি। অর্থ্যাৎ সবসময় অন্যের উপর দোষ চাপায়। এ ধরণের মানুষরা মনে করে তার জন্য যা নির্ধারিত তাই ঘটবে। তাই আমার কিছু করার দরকার কি। অপর দিকে প্রোএক্টিভ মানুষ তারাই যারা তার ব্যর্থতায় নিজের ত্রুটি খুজে বের করে তা সমাধান করার চেষ্টা করে। তারা এটা ভাবে যে কিভাবে করলে আমি সফল হতাম। তারা অন্যের দোষ খোজে না।

অভ্যাস ২. শেষটা মনে রেখে শুরু করুনঃ ধরুন আপনি একটা দালান বানাবেন তাহলে দালানটার সবকিছুই আপনাকে পরিপূর্ণ ভাবে ভাবতে হবে। তেমনি আপনি কেমন মানুষ হতে চান তা নির্ভর করে আপনার জীবনের শেষ অবস্থায় নিজেকে কিভাবে দেখতে চান। ধরুন আপনি মারা গেছেন তাহলে আপনি কি চান মানুষ আপনাকে নিয়ে ভালো বলুক? তারা বলুক যে মানুষটা ভালো ছিল। তিনি মানুষের জন্য অনেক কিছু করেছেন। নাকি আপনি চান তারা বলুক যে, মারা গেছে ভালো হয়েছে। অনেক জ্বালিয়েছে।  ব্যাপারটা ঠিক এমনই। জীবনের শেষ দিনটা মাথায় রেখে কাজ করুন।

অভ্যাস ৩. গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে করুনঃ আমরা সচরাচর শেষ সময় না আসা পর্যন্ত কাজ করিনা। কাল পরীক্ষা হলে তার আগের দিন পড়তে পড়তে ঘুম হয়না। আবার কিছু কিছু গুরুত্বহীন কাজ কে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকি। যেমন নতুন মুভি আসার সাথে সাথেই দেখে ফেলা। ফেসবুকে অযথা সময়ই দিয়ে রাতে দেরীতে ঘুমাতে যাওয়া। লেখক মানুষের জীবনের সবকাজকে চারটি ভাগে ভাগ করেছেন। যেমন

  • ১. তাৎক্ষণিক ও গুরুত্বপূর্ণঃ যেমন অনেক কাজের শেষ সময় রয়েছে কালকের মধ্যে প্রজেক্ট জমা দিতে হবে। অর্থ্যাৎ ডেট লাইন রয়েছে যা না করলে ক্ষতি হবে।
  • ২. তাৎক্ষণিক নয় কিন্তু গুরুত্বপূর্ণঃ এইভাগে সমস্ত ভালো কাজগুলো পড়ে। যেমন ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, ব্যায়াম করা। এগুলো সাথে সাথে না করলেও চলে কিন্তু না করলে ক্ষতি হবে। কিন্তু আমরা এগুলোই বাদ দেই বেশী।
  • ৩. জরুরী কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নয়ঃ যেমন প্রিয় নায়কের মুভি আসা মাত্র সিনেমায় দেখতে যাওয়া।
  • ৪. জরুরী না গুরুত্বপূর্ণ নয়ঃ যেমন ফেসবুকিং। তিনি তিন ও চার নম্বরের কাজগুলো পাড়লে বাদ দিতে বলেছেন। ২ নম্বরে বেশি গুরুত্ব দিতে বলেছেন।

অভ্যাস ৪. নিজেও জিতুন অপরপক্ষকেও জিততে ‍ দিনঃ ধরুন আপনি চান আপনার সন্তান দুই ঘণ্ট পড়ুক। আর সে চায় আইমক্রিম খেতে। তাহলে তাকে বলুন যে সে দুই ঘণ্টা পড়লে তাকে আইসক্রিম খেতে দেবেন। আবার ধরুন আপনার ভালোবাসার মানুষটি রোমান্টিক মুভি দেখতে চায় আর আপনি চান একশন মুভি দেখতে তাহলে একশন রোমান্টিক দেখুন। দুজনেই জিতলেন। সব সময় এমন নাও হতে পারে। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন দুপক্ষই জিততে।

অভ্যাস ৫. আগে বুঝুন তারপর বোঝানঃ অনেক সময় হয় দুই পক্ষই কথা বলেই যায় কেউ কারো বুঝতে বা শুনতে নারাজ। শুরু হয় ঝগড়া। আগে শুনুন আপনার সামনের জন কি বলতেছে এবং  কেন বলতেছে? বোঝার চেষ্টা করুন। তারপর আপনারটা বোঝান। সহজেই সমাধান হবে।

অভ্যাস ৬. বড় কিছু করতে হলে কাজ ভাগাভাগি করুনঃ ধরুন আপনাকে একাই অনেক কাজ করতে হয়। দেখবেন কাজে শৃঙ্খলা আসবেনা কাজ ভালো হবেনা। যদি অন্যকাজগুলো আপনার পরিচিত কেউ থাকে তাহলে তার সাথে কাজ ভাগাভাগি করে নিন। কাজের কোয়ালিটি বাড়বে।

অভ্যাস ৭. আগে পর্যাপ্ত ধারণা নিন তারপর কাজ করুনঃ ধরুন শাড়ির ব্যবসা করবে দুজন মানুষ। মোট ৫০ হাজার টাকা প্রত্যেকের আছে। একজন ৫০ হাজার টাকার শাড়ি কিনে আনল। আর কাজে নেমে পড়ল। কিন্তু তার শাড়ি কেউ কিনছেনা। অপরজন আগে বিভিন্ন বাজারে গেল। সে দেখল বর্তমানে কোন শাড়িগুলো মানুষ কিনছে। বিক্রেতারা কিভাবে ক্রেতাকে বোঝাচ্ছে। সব বুঝে শুনে সে সেরকম শাড়ি কিনে আনল। তাহলে বলুন কে সফল হবে? অবশ্যই দ্বিতীয়জন।

আশা করি সফল মানুষরা যা করে সফল হয়েছেন তা আপনি খুজে পেয়েছেন। তাহলে আর দেরী নয়। পরিকল্পনা করে নেমে পড়ুন জীবনে সফল হওয়ার মিশনে। পোস্ট ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Leave a Comment