মোটিভেশন কেন বেশীদিন টিকে থাকে না?

কোনো একটা কাজ শুরু করার পর কেন তা আমরা করা ছেড়ে দেই? কিংবা বন্ধুরা একটা ভালো কাজ করছে তা দেখে নিজেও তা শুরু করলাম কিন্তু কাজটা শুরু করার দুই একদিন পরেই আর ধর্য্য থাকে না কাজটা বিরক্তকর লাগে। অথবা এমনও হয় যে দারুন মোটিভেশনাল একটা বই পড়লেন কিংবা একটা মোটিভেশনাল ভিডিও দেখে কাজটা শুরু করলেন কিন্তু দুই তিনদিন পর আর মোটিভেশন কাজ করছে না অর্থ্যাৎ আপনার আর কাজটাই ভালো লাগছেনা। যদিও কাজটা অনেক ভালো হয় তবুও কাজটা করার আর ইচ্ছে জাগে না। কিন্তু কেন? আজ আমরা আলোচনা করবো এমনটা কেন হয় এবং কিভাবে কাজে দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকা যায় বা একটি কাজ কিভাবে সমাধান করা পর্যন্ত লেগে থাকা যায়।

এর প্রধান কারণ হল আশা। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো কাজের প্রতি আপনার আশা টিকে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার মানসিক শক্তি বা এনার্জিও টিকে থাকে। ধরুন একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব কিনে এমনি রেখে দিলেন তা কি নিজে নিজে আলো বিকিরণ করবে? করবেনা। তাহলে কি করতে হবে? আপনাকে সেটা বৈদ্যুতিক তার দিয়ে বৈদ্যুতিক কোনো লাইনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত বাল্বটা লাইনের সাথে সংযুক্ত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তা জ্বলবে। ঠিক সেরকমই যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মনে একটা আশা কাজ করে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কাজ করার এনার্জি পাই। আশা শেষ  হয়ে গেলে কাজ করার এনার্জিও শেষ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমরা হলাম সেই শুণ্য বাল্বের মত, ইলেকট্রিক টা হল আমাদের মনের আশা, আলোটা হল আমাদের এনার্জি, আর তারটা হল এনার্জির সাথে কানেক্ট করার একটা মাধ্যম। এই মাধ্যমটা হতে পারে কোনো ব্যক্তি, বই বা কোনো ভিডিও।

যখন আমরা কোনো ভালো জিনিস কাউকে করতে বা বলতে দেখি আমাদের মনে সাথে সাথেই একটা আশার সঞ্চার হয়। আমাদের মনে হয় যদি এই কাজটা আমিও করি তাহলে আমারওতো অনেক ভালো হতে পারে। আমিও পারবো এমন হতে। তখন আমাদের ভোল্টেজ হাই থাকে আর আমরা এনার্জি পেতে শুরু করি এবং কাজটা শুরু করে দেই। কিন্তু মাত্র দুই তিন ‍ দিন পরেই সব শেষ । এজন্য দুটি কারণ দায়ী। আর তা হলঃ

১. মাত্রাতিরিক্ত আশা করাঃ ধরুন কোনো ভিডিও দেখে বা বই পড়ে আপনি ব্যায়াম শুরু করলেন। তিন ‍দিন পরেই আয়নার সামনে বডির চেন্জ দেখতে চাইলেন বা ওজন মেপে দেখতে লাগলেন যে ওজন কমলো কিনা। তিন দিনে তো আর পরিবর্তন পাওয়া সম্ভব না। যখন দেখলেন কোনো পরিবর্তন নাই ,আশা শেষ হয়ে গেল। এনার্জি, লাইন থেকে ডিসকানেক্ট হয়ে গেল। কাজ বাদ দিয়ে দিলেন। আমাদের বুঝতে হবে যে আমরা কোনো কম্পিউটার নই। ক্লিক দিলেই কাজ হল এমন না। বাস্তব জীবনে ফল পেতে সময় লাগে। গাছ লাগানোর সাথে সাথে ফল দেয় না। তার যত্ন নিতে হয়।

২. একাধিক কাজ করার প্রবণতাঃ ধরা যাক কাজটা আপনি দুই বা তিন দিন করলেন এরপর চোখে আরেকটি কাজ চোখে পড়লো আর আপনার মনে হল কাজটা তো দারুণ। এটার চেয়ে ওটাই ভালো। তারপর এই কাজ বাদ দিয়ে ওইটা শুরু করলেন আর সেই কাজ কিছুদিন করার পর আবার একই ঘটনা ঘটল। দেখা গেল আপনার কিছুই করা হল না।

চলুন সমাধানগুলো দেখা যাক-

১. মাত্রাতিরিক্ত আশা করবেন না। বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করুন। আর তা মেনে চলুন। কোনো ফলাফল পেতে সর্বনিম্ন ২১ দিন লাগে। তাই কাজ করেই চলুন। আর একদিনেই আকাশ পাতাল শেষ করে ফেলার দরকার নেই। ধরুন ১ম সপ্তাহে ২ মিনিট করে মেডিটেশন করলেন। পরের সপ্তাহে তিন মিনিট এভাবে ধীরে ধীরে সময় বাড়ান।

২. কাজ পরিবর্তন করার  আগে ভাবুন আপনার বর্তমান কাজের উদ্দেশ্য কি ছিল? আপনি কি তা পূরণ করতে পেরেছেন? কেন পারেননি? বর্তমান যে কাজটি শুরু করতে যাচ্ছেন তার সময় যে এমন আবার হবেনা তার কোনো গ্যারান্টি নেই। এর উত্তর নিন নিজের কাছে। দরকার হলে যে বই বা ভিডিও দেখে কাজটা শুরু করেছিলেন তা আবার দেখুন। আবার নিজেকে রিচার্জ করুন। এরপর কাজটি আবার শুরু করুন আর সাফল্য পান।

ধন্যবাদ।

2 thoughts on “মোটিভেশন কেন বেশীদিন টিকে থাকে না?”

Leave a Comment