কীভাবে অলসতা দুর করবেন খুব সহজেই

অলসতা কি? অলসতা কেন আসে? অলসতা দুর করার সহজ উপায় কি কি?

যে কোন জিনিসে সহজে ক্লান্তি আসা মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য। সত্যি বলতে অন্য সব জিনিসে ক্লান্তি বা অলসতা আসলে তা থেকে অন্য কিছু করে তা হয়তো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। কিন্তু যদি আলসেমি করতে করতেই ক্লান্তি আসে তা থেকে বের হওয়া ততটা সহজ নয়। তবে কিছু নিয়ম জানা থাকলে তা থেকে বের হওয়া কঠিন কিছু নয়। যেমন ধরুন, আপনার নিজেরই মনে হতে পারে আরে সারাদিন শুধু শুয়ে বসে থেকে আর ভালো লাগছে না। বই পড়তে ভালো লাগে না, পড়তে ভালো লাগেনা। এত বেশি কি শুয়ে বসে দিন কাটানো যায়। দিনটা যেন কাটছেই না। ভেবে দেখুন আলসেমিতেও ক্লান্তি এসে গেছে। ঠিক যদি এরকম অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন আপনি তাহলে আজকের এ আলোচনা আপনার জন্যই। আমরা আজ আলোচনা করবো কিভাবে অলসতা দুর করা সম্ভব। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

অলসতা কি? অলসতা কেন আসে?

প্রথমেই চিন্তা করুন আমাদের আদি পুরুষদের নিয়ে। তারা শিকার করে খেতেন। তারা জানতেন না তাদের উপর কখন বন্য পশু আক্রমণ করবে। তারা শক্তি সঞ্চয় করে রাখত সেই সব মুহূর্তের জন্য। এজন্য তারা ৮০% সময় অলসভাবে সময় পার করতো আর ২০% সময় এক্টিভ থাকতো খাদ্য সংগ্রহ ও বিপদ থেকে বাচাঁর জন্য। সময় বদলেছে। আমাদের সবারই প্রায় খাদ্যের নিশ্চয়তা আছে। অনেক প্রকার বড় বিপদের পূর্বাভাস পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক সেই আগের সিস্টেমেই চলছে। অধিকাংশ সময়ই আলসেমি করেই যায় আমাদের।

আসুন কিছু বৈজ্ঞানিক আলোচনা দেখি। আমরা তাৎক্ষণিক ফলাফল পাই এমন কাজে বেশি এক্টিভ থাকি। ধরুন আপনি গেম খেলছেন মোবাইলে। একবার হারলেন তো পরের বারই জিতলেন। জেতাটা এক ধরণের পুরষ্কারের মত। জিতলেই ডোপামিন নামক এক ধরণের হরমোন ক্ষরিত হয়। আমাদের মনে আনন্দের অনুভূতির সৃষ্টি করে। তাই আমরা আরো খেলে চলি। কিন্তু বই পড়ার ক্ষেত্রে দেখুন। সাথে সাথেই কি আপনি কোনো ফলাফল পাচ্ছেন? পাচ্ছেন না। বিশেষ করে কোনো উপন্যাস গল্পের সময়তো একদমই না। তাই আলসেমি চলে আসে। আবার পড়ার আরেকটা বিষয় লক্ষ করুন। পরীক্ষার আগের রাতে কিন্তু ঠিকই পড়ার মানসিকতা চলে আসে। কেন? কারণ আমাদের মস্তিষ্ক ভালো করেই জানে যে পড়লে আজ ভালো মত পড়লে পাশ না হলেই ফেল। অর্থ্যাৎ খুব দ্রত ফলাফল পাওয়ার বিষয় আছে এখানে।

তাহলে অলসতা দুর করার উপায় গুলো কি কি তা জেনে নেয়া যাকঃ

উপায় ১: বিছানা থেকে দুরে থাকুনঃ আমাদের জীবনে অনেক কাজ আছে যা আমাদের ভেবে করতে হয়না। আমাদের অবচেতন মন এসব নিয়ন্ত্রণ করে। বিছানা ঘুমের জন্য, শোয়ার জন্য। তাই বিছানায় বসলে আমাদের অবচেতন মন আমাদের মস্তিষ্কে সিগনাল দেয় ঘুমের। আর সময়টা ঘুমের না হলে আমাদের মাঝে আলসেমি চলে আসে। শরীর ভারী লাগে। তাই এক কাজ করা যেতে পারে। মেঝেতে বসতে পারেন। শুধু ঘুমানো সময় ছাড়া বিছানা থেকে দুরে থাকুন।

উপায় ২: ব্যায়াম করুনঃ অলসতা দুই ধরনের । শারীরিক আর মানসিক। শারীরিক অলসতা দুর না করে মানসিক অলসতা দুর করা সম্ভব নয়। শারীরিক অলসতা দুর করার অন্যতম মাধ্যম হল ব্যায়াম করা। খাদ্য, ব্যায়াম আর সেক্স এই তিনটা জিনিস ডোপামিন ক্ষরণ বাড়িয়ে তোলে ব্যাপকভাবে। অর্থ্যাৎ খুব দ্রুতই আপনি অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। তাই আপনি হয়তো দেখতে পারেন যে এমন কেউ আছে যারা ব্যায়াম ছাড়া থাকতে পারেনা। আর আপনি যদি ব্যায়ামে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন তাহলে আপনারই লাভ। অলসতা যাবে। শরীর ভালো থাকবে। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবেন। মন ভালো থাকবে। তাহলে শুরুতে কষ্ট হলেও ব্যায়ামে অভ্যস্ত হয়ে নিন।

উপায় ৩: নিজেকে পুরষ্কৃত করুনঃ ধরুন আপনার একটা কাজ করা জরুরী। কিন্তু কাজটা করতে ভালো লাগছেনা। আমরা উপরের আলোচনায় জেনেছি যে তাৎক্ষণিক ফলাফল নেই এমন কাজে আলসেমি আসে। তাহলে কি করা যাবে? তাহলে করতে হবে যে, আপনার করতে হবে কিন্তু ভালো লাগছেনা এমন কাজটার জন্য নিজেকে বলুন যে আজ যদি আমি এই অংশটা শেষ করতে পারি বা আজ যদি আমি একটা চ্যাপ্টার পড়তে পারি তাহলে নিজেকে পুরষ্কার দেব। আর পুরষ্কার টা হল যেটা আপনার ভালো লাগে। যদি আপনি খেতে খুব ভালোবাসেন। তাহলে নিজেকে বলুন এই তিন দিনে যদি তিনটা চ্যাপ্টার শেষ করতে পারি তাহলে বিরিয়ানী খাবো। এ ক্ষেত্রে পুরষ্কারটা হতে পারে যে কোন। যা আপনি পছন্দ করেন। তবে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

উপায় ৪: একই কাজ ভিন্নভাবে করুনঃ আমরা সাধারণত সেই কাজ করতে আলসেমি বোধ করি যা আমাদের ভালো লাগে না। তাই ভালো লাগে না এমন কাজ না করাই ভালো। কিন্তু সবসময় কি তা আর সম্ভব হয়? আপনি ছাত্র হলে পড়াশোনা যদি আপনার ভালো না লাগে তাহলে তা কি বাদ দেওয়া যাবে? যাবেনা। তাহলে তা করতে হবে ভিন্ন ভাবে। আপনার যদি ভিডিও দেখতে ভালো লাগে তাহলে পড়ার ভিডিও আছে ইউটিউবে সেটা দেখুন। অনুপ্রাণিত করে এমন ভিডিও দেখুন। আমাদের ওয়েব সাইটের লাইভস্টাইল সেকশনের পোস্টগুলো দেখুন। ভালো আপনার লাগবেই।

এখন কথা হল চারটা উপায়ের চারটাই করতে লাগবে এমন কোনো কথা নেই। ‍যদি একটা উপায়ও আপনার কাজে লাগে তাহলে সেটা দিয়েই অলসতা দুর করুন। জীবন আপনার, মস্তিষ্কও আপনার। তাকে নিজের কাজের জন্যই ব্যবহার করুন। পোস্টটি আপনার উপকারে আসলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুনঃ

মোবাইল ফোনের আসক্তি কমানোর উপায়

ধনীরা কেন ধনী আর গরীবরা কেন গরীব?

জীবনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কি?

যেভাবে নিজের জীবন বদলে ফেলা সম্ভব।

কিভাবে সুন্দরভাবে কথা বলা যায়?

Leave a Comment