Close

October 20, 2020

ছোট সমস্যাকে ভেবে ভেবে বড় বানানো বন্ধ করবেন যেভাবে

আপনার জীবনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা কি তা একটু ভেবে নিন। আর চলুন একটু অতীতে ফিরে যাই। ছোট বেলায় দেখা যেত যদি মাঠে কোনো ক্রিকেট খেলা থাকত তাহলে প্রথম চিন্তা থাকত যে যেন আউট না হয়ে যাই তাড়াতাড়ি। আর সব সময় শুধু সেই চিন্তাটাই কাজ করতো মাথায়। খাওয়া, বেড়ানো বা যে কোন কাজের সময়ও সেই চিন্তাটা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতো। সেই কথা গুলো ভাবুন হাস্যকর লাগে এখন তাই না? বা কোনো মজার কিছু লিখে রেখেছিলেন ডায়রীতে আর আজ যদি পড়ের দেখবেন কি সব হাস্যকর ব্যাপার লিখে রেখেছিলাম। কিন্তু ভেবে দেখুন সেগুলো সেই সময় খুবই সিরিয়াস বিষয় ছিল। আর আজ সেগুলোই হাস্যকর লাগে।

আলোচনার প্রথমেই বলেছিলাম এই মুহূর্তে আপনার জীবনের বড় সমস্যা কি তা ভেবে রাখতে। আজ যা আপনার কাছে অনেক সিরিয়াস কিছু বেশ কয়েক বছর পর তাই আবার হাস্যকর লাগবে আপনার কাছে। শুধু এই সহজ বিষয়টা মানুষ একটু ভেবে দেখেনা বলে দুশ্চিন্তায় রোগ বাড়িয়ে চলে আর কেউ কেউ ডিপ্রেশনে আত্বহত্যা করে।

একবার ভেবেই দেখুন না এসএসসি পরীক্ষার কথাই ভেবে দেখুন না। পরীক্ষা দিতে যাওয়া বা তার আগের দিন প্রতিবেশী কিংবা মা বাবা এমন ভাবে এগিয়ে দেয় যেন কোনো ভাবে যদি আপনি ফেইল করে বসেন তাহলে জীবন শেষ এমন একটা ভাব। অনেক শিক্ষার্থীতো আত্বহত্যা করে রেজাল্ট খারাপ হয়েছে বলে। অথচ চাকরি পাওয়ার পর বা ইনকাম করার পদ্ধতি সমন্ধে ভালো ধারণা হয়ে যাওয়ার পর সেই সিরিয়াস নেসের ব্যাপারটাই হাস্যকর লাগে। ২০২০ সালের অবস্থাটা ভেবেই দেখুন না করোনার জন্য এইচ এস সি পরীক্ষায় অটো পাস করে দেওয়া হল সবাইকে। জীবন পরীক্ষার থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ কথা ভেবেই।

আজকে আমরা আলোচনা করবে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায়। আর এ উপায়গুলো নেওয়া হয়েছে বিখ্যাত লেখক Richard Carlson লেখা বই Don’t sweat the Small Stuff থেকে। চলুন দেখে নেই সেই গুরুত্বপূর্ণ উপায় গুলো।

আইডিয়া ১: জীবনটা ইমার্জেন্সী কিছু না এটা বারবার নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়া। আমরা কেউ কেউ আছি যারা জীবনকে ইমার্জেন্সী মনে করে পরিবারের মানুষদের সময় পর্যন্ত ‍দিয়ে উঠতে পারছি না। দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে, সন্তান ও বাবা- মায়ের মাঝে। মাঝে মাঝে জীবনের সবচেয়ে ছোট সমস্যাটিকেও ভেবে বড় সমস্যা বানাই এবং ইমার্জেন্সী ভেবে বসি।

উদাহারণ স্বরূপ বলা যায়, ধরা যাক কোনো এক বাড়ীর কর্ত্রী ঘর গুছিয়ে রাখতে পছন্দ করে। কাজটা কিভাবে পারফেক্ট করা যায় তা নিয়েই তার সব চিন্তা। যদি দেখা যায় তার স্বামী কোনো ভাবে কিছু অগোছালো করে ফেলেছে তাহলে তুলকালাম বেধে যায়। তিনি ভুলে যান যে ঘর সাজিয়ে রাখার চেয়ে সুসম্পর্ক ধরে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিকল্প সমাধান চিন্তাও করেন না।

আবার দেখা যায়, আমাদের সারাদিনে কি কি কাজ করবো তার তালিকায় যদি ছয়টি কাজ থাকে আর চারটা করে ফেলি তাহলেও দেখা যায় বাকি দুইটা কাজ কেন করা হয় নি সেই আফসোস থেকে সেদিনের খুশি নষ্ট করে মন খারাপ করে বসে থাকি। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম যে আমাদের মাথায় মনে হয় কেউ পিস্তল ঠেকিয়ে বলে যে বাকি কাজ দুইটা কেন শেষ করিস নি। এর থেকে এটা বোঝা গেল যে আমরা নিজেরাই ব্যাপারটাকে ইমার্জেন্সী বানিয়ে ফেলি আর সেই কাজটাকে আমাদের হাসি খুশীর কারণ বানিয়ে ফেলি। ওটা শেষ করতে না পারলে যেন জীবনই শেষ হয়ে যাবে। তাই নিজেকে বারবার বলুন জীবন কোনো ইমার্জেন্সী না। আপনি মারা গেলে সবকিছু আবার শূণ্যে নেমে আসবে।

আইডিয়া ২: নিজে সঠিক আর অন্যকে ভুল প্রমাণ করা বন্ধ করুন। আমাদের মধ্যে এটা প্রবল ভাবে দেখা যায় যে কিভাবে নিজেকে সঠিক আর অন্যকে ভুল তা প্রমাণ করতে পারবো সেটা নিয়ে লেগে থাকি। কখনো এটা ভাবি না যে অন্যকে ভুল প্রমাণ করে কি পাচ্ছি? তার ভালবাসা? সেটা তো সম্ভব না। বরং সে আপনার প্রতি রেগে যাবে আর আপনার শত্রুও হয়ে যেতে পারে। ভেবে দেখুন, আপনাকে ভুল প্রমাণ করলে আপনি কি সহজভাবে নিতে পারতেন? পারতেন না। এটা কেউই সহজে মেনে নিতে পারেনা। তাই নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে লাভ কি? তাকে খুলে বলুন যে আমার মনে হচ্ছে এটা সঠিক। সে যদি মানে তাহলে ভালো আর না মানলে চুপ থাকুন। কারণ নিজের মতামত তার উপর জোর করে চাপানো টা সম্পর্ক খারাপ করে।

আইডিয়া ৩: সমস্যা মানেই নতুন কিছু শেখার সুযোগঃ করোনা শুরুর আগে আমরা অনেকেই জানতাম যে কোনো কিছু খাওয়ার আগ ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হয়। কিন্তু অনেকেই সেটা ভালো ভাবে মেনে চলতাম না। কিন্তু যখনি করোনা সমস্যা এলো। সবাই ব্যাপারটা ভালো করে মেনে চলতে লাগল। আবার ধরুন আপনার বস খুবই ডিমান্ডিং। এই করোনা সমস্যায় অনেকে চাকরি হারিয়েছে। বস কেমন হয় হোক আপনার চাকরিটা তো আছে। এখন এই করোনায় চাইলে আপনি খিটখিটে মেজাজ নিয়ে কষ্টে থাকতে পারেন আবার চাইলে বস ভালো না হলেও তার সাথেই কিভাবে ভালো করে চলা যায়, কাজ করে ইম্প্রুভ করা যায় তা শিখে পরবর্তীতে কাজে লাগাতে পারেন। সবশেষে বসের ডিমান্ডিং মেজাজ আপনার জন্যেই ভালো।

তাই সমস্যা যখন এসেই গেছে তাহলে সবচেয়ে ভালো কাজ হবে এর সমাধান কি হবে তা নিয়ে চিন্তা করা। আপনি যদি অতিরিক্ত চিন্তা করেন আপনার কাজ কিন্তু সমাধান হয়ে যাবে না। অতিরিক্ত চিন্তা করে আপনার সমস্যা আরো বেড়ে যাবে। তাই যা আপনাকে সমাধান করতেই হবে তা নিয়ে আর অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা আর নয়। বরং শান্ত থেকে আপনার সেই সমস্যা সমাধান করার ভালো উপায় বের করে ফেলতে পারবেন। ধন্যবাদ।

পোস্ট টি আপনার ভালো লাগলে ফেসবুকে রেকমেন্ড করুন আর শেয়ার করুন বন্ধুদের মাঝে।

আরো পড়ুনঃ

ব্যাকবেঞ্চাররা কেন মিলিয়নার হয়?

কীভাবে জীবনের লক্ষ্য খুজতে হয়?

জেনে নিন অসফল মানুষদের ছয়টি অভ্যাস বা ব্যর্থ হওয়ার কারণ

কীভাবে ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠবেন?

কোটিপতি ওয়ারেন বাফেট এর কিছু জীবন বদলে দেওয়া মূল্যবান উপদেশ

প্রকৃত ভালোবাসা আসলে কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: