প্রচলিত ৬ টি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস এর ধরণ ও কাজের বিবরণ

প্রচলিত কয়েকটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস এর নাম পূর্বের পোষ্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এ পোষ্ট পুরোপুরি বুঝতে আগের পোষ্টটি পড়ার অনুরোধ রইলো ঐ পোষ্টে মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে, পূবের পোষ্টটি দেখতে, এখানে ক্লিক করুন (ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেস কি? – মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ধারণা)

উল্লেখিত মার্কেটপ্লেস যেমনঃ

  1. আপওয়ার্ক (Upwork)
  2. ফাইভার (Fiverr)
  3. ফ্রিল্যান্সার (Freelancer)
  4. পিপলস্ পার আউয়ার (PeoplePerHour)
  5. নাইনটি নাইন ডিজাইন (99designs)
  6. আরেকটি বাংলাদেশি মার্কেটপ্লেস কাজকী? (KajKey)

আপওয়ার্ক (Upwork)

কয়েকটি বহুল পরিচিত মার্কেটপ্লেস এর মধ্যে আপওয়ার্ক অন্যতম, এটি এই পর্যন্ত অনেক পরিচিত একটি মার্কেটপ্লেস, আপওয়ার্ক মূলত ২০০৩ সালে ওডেক্স নাম দিয়ে কাজ পরিচালনা শুরু করে, পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ওডেক্স থেকে নামকরণ করে আপওয়ার্ক রাখা হয়। এই ওয়েবসাইট এ বিক্রেতা (Seller) এতো বেশি পরিমাণ হয়ে গেছে যে, কেউ যদি এই ওয়েবসাইট এ কাজ করবে বলে একটি একাউন্ট খোলে, তাকে প্রথমত পর্যবেক্ষণ (Verification) এর জন্য রাখা হয়, এবং পরবর্তীতে ই-মেইল এর মাধ্যমে তার একাউন্ট এর ব্যাপারে জানানো হয়, সে একাউন্ট খুলতে পারবে কি না। এই পর্যবেক্ষণ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য যে বিষয়টি ওরা দেখে, সেটা হল আপনি কোন কাজটি করতে চান।

Upwork – এ সেলাররা মূলত দুই ভাবে কাজ করেঃ

  1. আওয়ারলি কাজ (Hourly Job): আওয়ারলি যেসব কাজ, সেটার জন্য ক্রেতা (Buyer) প্রতি ঘন্টায় আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ডলার পেয়েমেন্ট করবে এবং এটি একটি সয়ংক্রিয় (Automatic) প্রক্রিয়া, আপনার একাউন্ট এ প্রতি ঘন্টায় সে পরিমাণ ডলার ঘুকতে থাকবে। একাউন্ট খোলার সময়, সেজন্য আপনাকে একটি ঘর পুরণ করতে হবে, প্রতি ঘন্টায় কত  ডলার নিবেন আপনি।
  2. ফিক্সড প্রাইস (Fixed Price Job): ফিক্সড প্রাইজ মানেই একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য নিদির্ষ্ট পরিমাণ ডলার, মনে করেন, ক্রেতা (Buyer) একটি কাজের ব্যাপারে পোষ্ট করলো কাজের নাম, মান ও বাজেট নির্ধারণ করে দিয়ে, আপনাকে সেই কাজে আবেদন (Bid) করতে হবে, এবং আপনার কাজের বিররণ সহ আপনি চাইলে ক্রেতা (Buyer) এর দেওয়া বাজেট এর কমে বা বেশি ডলার দিয়ে সে কাজে আবেদন (Bid) করতে পারেন।

আপওয়ার্ক এ আয়ক্রিত অর্থ আপনি সরাসরি ব্যাংক একাউন্ট এ নিতে পারেন, এছারাও আপওয়ার্ক অনলাইন (Online) কিছু প্লাটফর্ম সমর্থন করে, যেমনঃ PayPal, Payoneer

ফাইভার (Fiverr)

ফাইভার বহুল পরিচিত একটি মার্কেটপ্লেস, ২০১০ এ ফাইভার যাত্রা শুরু করে এবং খুব অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, ফাইভার এর ওয়েবসাইট খুব সহজ তাই বুঝতে পারা যায় খুব দ্রুত, তাই নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি উপযুক্ত একটি ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইট এ প্রচুর ভিজিটর থাকে তাই কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে।

মূলত ফাইভার বিক্রেতা (Seller) ভিত্তিক ওয়েবসাইট, মানে কাজ যা পারেন সে বিষয়ে আগে পোষ্ট দিবেন, যাকে ফাইভার এর ভাষায় গিগ বলে, এর পর ক্রেতা (Buyer) সকল বিক্রেতা (Seller) এর মধ্য থেকে একজন কে নির্ধারণ করে কাজ দিবেন, তবে ফাইভার এ Buyer Request নামে একটি Option আছে সেখানে মূলত ক্রেতারা বিভিন্ন কাজের ব্যাপারে পোষ্ট দেয় এবং বিক্রেতা হিসেবে সেসব কাজে আপনি আবেদন করতে পারবেন।

ফাইভার এর UI (User Interface) অনেক সহজ এবং অনেক ভিজিটর থাকে Monthly তাই কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক থাকে। ফাইভার নিয়ে আমাদের একটি পুরো প্রোগ্রাম থাকবে, শুরু ফাইভার থেকেই করা হবে।

ফ্রিল্যান্সার (Freelancer)

ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেস জনপ্রিয় একটি মার্কেট, তবে এই মার্কেটপ্লেস এ কাজ পাওয়া একটু কঠিন কারণ এই মার্কেটপ্লেস অনেক প্রতিযোগিতাপূর্ণ, মূলত সব মার্কেটপ্লেসেই প্রতিযোগি থাকেই, তবে ফ্রিলান্সার মার্কেটপ্লেস এ সব ধরনের কাজের জন্য একটি করে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকে এবং পরীক্ষা শেষে ফলাফল আপনার প্রোফাইলে যুক্ত হয়, আর কিছু কিছু পরীক্ষা আছে, যেটা দিতেও ডলার দেওয়া লাগে, তাই সব মিলিয়ে এই মার্কেটপ্লেস এ প্রতিযোগিতা একটু বেশি।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই মার্কেটপ্লেস ভালো বিশেষ করে কাজ শিখার জন্য, যেমনঃ যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনার হয়ে থাকেন তবে ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেস এ একটি অপশন আছে, যেখানে ক্রেতারা (Buyers) বিভিন্ন ডিজাইনের নমুনা সহ, বিবরণ দেয় এবং সেই নমুনা ও বিবরণ অনুযায়ী আপনাকে একটি ডিজাইন বা একাধিক ডিজাইন বানিয়ে Submit করতে হয়।

ক্রেতা (Buyer) সে সকল ডিজাইন, যা সারা পৃথিবীর বিভিন্ন কোনা থেকে বিভিন্ন মানের বিক্রেতারা (Sellers) দিয়ে থাকে, তাদের কে ৫ তারকা চিহ্নের মাধ্যমে রেটিং দেয়। যদিও এটি সেই ক্রেতার নিজের ভালো লাগার উপর রেটিং, তবুও নিজের কাজের উপর রেটিং পাওয়ার মজাই আলাদা, তবে হতাস হবেন নাহ, আমি নিজে গ্রাফিক্স ডিজাইন করতে গিয়ে এটা শিখছি, অনেক ক্ষেত্রেয় ক্রেতারা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তাদের কাছে যেটা ভালো ডিজাইন মনে হয়, সেটা দেখতে ভালো নাও লাগতে পারে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে আপনার। কাজ চালিয়ে যান, কাজ বুঝুন এবং ক্রেতাদের বুঝুন, তাইলে দেখবেন ভালো করবেন।

পিপলস্ পার আউয়ার (PeoplePerHour)

এই মার্কেটপ্লেসটি মিশ্র মার্কেটপ্লেস এর মত, মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে আমার পূর্বের পোষ্ট (ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেস কি? – মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ধারণা) এ আলোচনা করা হয়েছে মার্কেটপ্লেস এর বিভিন্ন প্রকারভেদ এর ব্যাপারে, এটি মূলত অনেকটা ওডেক্স ও ফাইভার এর মতন, আপনি চাইলে ঘন্টা ভিত্তিক কাজ করতে পারবেন, বা ফিক্সড প্রাইজে কাজ করতে পারবেন, অথবা গিগ দিয়ে, গিগ বিক্রির মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

নাইনটি নাইন ডিজাইন (99designs)

এই মার্কেটপ্লেস  মূলত ডিজাইন নিয়ে যারা কাজ করে তাদের জন্য, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন এবং এ জাতীয় যত ডিজাইন নিয়ে কাজ সব এই মার্কেটপ্লেস এ করা হয়। উল্লেখ্য যে, এই মার্কেটপ্লেস এ ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেস এর মত ডিজাইনার কনটেস্ট আছে, যার মধ্য দিয়ে ক্রেতা যা চায় সে অনুযায়ী আপনি এবং পৃথিবীর সব ডিজাইনার রা ডিজাইন দিয়ে থাকলে, ক্রেতারা একটি Rating দেয়।

কাজটি অনেক মজার আর দক্ষতা অর্জনের জন্য অনেক ভালো, যা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। তাই যদি ডিজাইনার হয়ে থাকেন, তবে এই মার্কেটপ্লেস অনেক ভালো হতে পারে আপনার জন্য।

বাংলাদেশি মার্কেটপ্লেস কাজকী? (KajKey)

কাজকী মূলত বাংলাদেশে তৈরী বাংলাদেশ ভিত্তিক মার্কেটপ্লেস, বিকাশ, রকেট সহ নানা রকম বাংলাদেশি পেমেন্ট মেথড দিয়ে কাজ করা যায় এতে, সম্পূর্ণ বাংলায় এবং বাংলাদেশি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিয়ে এই ওয়েবসাইট, কাজ করার মাধ্যম অনেক রকম এবং দিন দিন বিভিন্ন রকম বৈশিষ্ট যুক্ত করছে, এর Developer রা। তাই কাজকি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার দের কাছে। তবে বাংলাদেশের মত এখানে, বাংলাদেশি টাকায় কাজের তুলনা করা হয় বলে, আয়ের পরিমাণ একটু কম, অন্যান্য বৈদেশিক যেসব মার্কেটপ্লেস এর তুলনায়।

কিন্তু বাংলাদেশে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার এর সাথে কাজ করার মজাই আলাদা, কিছু সমস্যা আছে, আশা রাখি সব সমস্যার সমাধান তারাতারি হবে। কাজকী বাংলাদেশ ভিত্তিক মার্কেটপ্লেস বলেই আমি উল্লেখ করলাম।

যদি একদম নতুন হয়ে থাকেন তবে আমার পূর্বের পোষ্ট গুলো পড়তে পারেনঃ

  1. ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেস কি? – মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ধারণা
  2. ফ্রিলান্সিং করতে কি কি লাগে?
  3. ফ্রিলান্সিং কার জন্য সব থেকে ভালো? ও নারীদের ক্ষেত্রে ফ্রিলান্সিং এর ভূমিকা!
  4. ফ্রিলান্সিং এর বিভিন্ন কাজ ও তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
  5. ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার কিছু ভালো দিক ও পূর্ব প্রস্তুতি

সবশেষে, বলতে পারি, যদি ফ্রিল্যান্সিং জগতে নতুন হয়ে থাকেন, তবে কাজ শিখুন এবং উপরে বর্ণিত মার্কেটপ্লেস এর মধ্য থেকে ফাইভার মার্কেটপ্লেস নির্বাচন করার পরামর্শ থাকলো আমার পক্ষ থেকে, কোন প্রশ্ন থাকলে জানাবেন, পরবর্তীতে ফাইভার মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে বিস্তারিত পোষ্টের মাধ্যমে মার্কেটপ্লেস এর সম্পূর্ণ ধারণা দেওয়া হবে। – ধন্যবাদ

Leave a Comment