সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি ও কিভাবে শুরু করবেন বিস্তারিত

সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মূলত সোস্যাল মিডিয়া গুলোতে বিভিন্ন ভাবে লিংক, কোন তথ্য বা কোন প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে প্রচার করা, পরিচিত কিছু সোস্যাল মিডিয়া মার্কেট এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ

  1. ফেসবুক (Facebook)
  2. টুইটার (Twitter)
  3. ইনস্টাগ্রাম (Instagram)
  4. পিন্টারেস্ট (Pinterest)
  5. হোয়াটস্ এ্যাপ (WhatsApp)

মূলত ফেসবুক, টুইটার হলো সবথেকে বেশি জনপ্রিয় সোস্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট, তবে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকমের সোস্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট চলে, দেশ ভেদে এগুলোর ব্যবহার এর কিছু পার্থক্য আছে, সেটা বুঝলে মূলত মার্কেটিং অনেকটা সহজ হয়ে যায়। তবে যাই হোক, সব কিছুর সহজ ভাবে বললে প্রথমত শিখতে হবে, কিভাবে মার্কেটিং করা যায়, তারপড় নির্দিষ্ট জায়গা ভেদে মার্কেটিং করার বিশেষ কিছু পার্থক্য সম্পর্কে জানা যাবে।

মার্কেটিং এর ধরন আছে দুই প্রকারের। যথাঃ

  1. সাধারণ মার্কেটিংঃ সাধারণ মার্কেটিং হল যে মার্কেটিং টাকা ছাড়া বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে, নানা রকম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের মার্কেটিং করাকে বোঝায়। এ পদ্ধতিতে মানুষ নিজের মাধ্যমে কাজ সম্পাদন করে থাকে।
  2. পেইড মার্কেটিংঃ পেইড মার্কেটিং হল টাকার খরচ করে, বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট এ মার্কেটিং এর বিভিন্ন ধরনের মাধ্যমে একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ ও নির্দিষ্ট মানুষকে সেই নির্দিষ্ট প্রোডাক্ত বা বিষয়ের মার্কেটিং মিডিয়া তৈরী করা। এ পদ্ধতি সয়ংক্রিয় ভাবে হয়ে থাকে, আর এই মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে একজন মানুষকে শুধু নির্দিষ্ট বিষয়টি নির্ধারণ করে দিতে হয়, এবং সে নির্ধারিত বিষয়টির জন্য টাকা দিয়ে দিলেই হয়ে যায়।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, যদি টাকা দিয়ে সয়ংক্রিয় ভাবে মার্কেটিং হয়ে যায় তাহলে ফ্রিলান্সারদের কেন কাজ দেওয়া হয় মার্কেটিং এর জন্য?

এমন প্রশ্ন আসতেই পারে, উত্তর হল ফ্রিলান্সারদের যদি কোন বিষয় মার্কেটিং করতে দেয়, তবে সেই বিষয়টির একাধিক সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ একই সাথে কাজ হয়, ধরুন কেউ যদি পেইড মার্কেটিং ফেসবুকে করে তবে সে ফেসবুক থেকে মানুষ পাবে, অন্য কোন সোস্যাল মিডিয়া থেকে কোন মানুষ আসবে না, কিন্তু ফ্রিলান্সার দ্বারা এই কাজ করাইলে, একই সাথে একাধিক জায়গায় মার্কেটিং করানো সম্ভব।

ফেসবুক ও ফেসবুকে মার্কেটিং (Facebook & Facebook Marketing)

ফেসবুক একসময় পর্যন্ত পৃথিবীতে সবথেকে বড় সোস্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট ছিল, কিন্তু ফেসবুকের নামে কতিপয় কিছু তথ্য পাঁচারের অবরাধ ও হ্যাকিং হওয়ার মত ঘটনা এর সূত্রপাত এর মধ্য দিয়ে ফেসবুক তাদের অনেক বড় বড় ব্যাক্তিত্ব হারায়, এছাড়া অনেক এ সরে যায় ফেসবুক থেকে, তখন থেকে ধিরে ধিরে ফেসবুক নিচে নামতে থাকে। আর বর্তমানে আবার ফেসবুক নানা ভাবে নিজের অস্থিত্য ধরে রাখতে প্রকৃয়া গ্রহণ করছে, এবং সেই সুবাদে, এখন ও ফেসবুক দ্বারাই নানা রকম জিনিস প্রচার ও প্রসার চলতেই আছে।

ফেসবুক মার্কেটিং এর মধ্যে উল্যেখযোগ্য যেসব জায়গা আছে, তা হলঃ ফেসবুক পেজ, ফেসবুক গ্রুপ, ফেসবুক এ্যাড এর মাধ্যমে মার্কেটিং। একাধিক ফেসবুক একাউন্ট, ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ তৈরী করতে হবে এবং সেগুলোতে প্রতিনিয়ত পোষ্ট দিতে হবে। সব জায়গায় থাকতে হবে অধিপত্য সব বিষয়ের সাথে জরিত বড় বড় ফেসবুক গ্রুপ ও পেজের সাথে থাকতে হবে। এভাবে আসতে আসতে মার্কেটিং এর জায়গা তৈরী করতে হবে ফেসবুক টিকে।

টুইটার ও টুইট (Twitter & Tweet)

টুইটার মূলত একটি জনপ্রিয় সোস্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট এর পদ্ধতির জন্য, টুইটারে টুইট বলতেই কিন্তু ফেসবুকের বিশাল বড় পোষ্টের মতন নয়, টুইটারে টুইট লিখার জন্য খুব অল্প সংখ্যক শব্দ ব্যবহৃত হয়, যার ফলে টুইটারে সেই বিষয়টি আসে যে বিষয়টি মূল্যবান, মূলত একটা ব্যাপক বিষয়কে খুব অল্পভাবে যে মানুষ সাজিয়ে লিখতে পারে, তার কাছে টুইট বিষয়টি সোজা, এছাড়াও অতি অল্প বা নির্দিষ্ট পরিমান শব্দের ব্যবহার এর ফলে অহেতুক কোন তথ্য দেওয়া হয় না টুইটারে। যার ফলে টুইটার এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন দেশে, এবং আন্তর্জাতিক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে টুইটার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশ নির্ধারণ করে টুইটারে মার্কেটিং করা সম্ভব।

টুইটারে মার্কেটিং করার জন্য জরুরি হল, টুইটার ট্রেন্ড (Twitter Trends), টুইটার ট্রেন্ডিং বুঝে জনপ্রিয় ও চলতি বিষয় গুলোর Tag নির্বাচন করে, Tag সিলেক্ট করে মার্কেটিং করা। যেমনঃ Thursday Morning (#thursdaymorning), Valentine Day (#valentineday) এখানে দেখুন বিষয় হল পাশের টা আর ব্রাকেট এ থাকা বিষয় গুলো হল Tag বা হ্যাজটেগও বলে অনেকে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হ্যাজটেগ চলে, আর কোন বিষয় এর মার্কেটিং এর জন্য এই হ্যাজটেগ কাজে দেয়।

হ্যাজটেগ নির্বাচন করতে হয় ঐ দিনের ট্রেন্ডিং কে লক্ষ করে, পরবর্তীতে ট্রেন্ডিং ও হ্যাজটেগ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত পোষ্ট থাকবে।

ইনস্টাগ্রাম (Instagram)

ইনস্টাগ্রাম এ মার্কেটিং করার আগে, ইনস্টাগ্রাম সম্পর্কে বোঝা উচিৎ, ইনস্টাগ্রাম এ মূলত ছবি ভিত্তিক ওয়েবসাইট, তাই মার্কেটিং হল ছবি ভিত্তিক, এখানে মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে মূলত ছবি দ্বারা কোন বিশেষ কিছুকে প্রকাশ করা বোঝায়। এবং এর প্রোফাইলে একটি ওয়েবএড্রেস দেওয়া যায়, যা দ্বারা এটা বোঝানো সম্ভব যে এই ইনস্টাগ্রাম ওয়েবসাইট টি কোন প্রতিষ্ঠান বা ওয়েবসাইট এর জন্য।

পিন্টারেস্ট (Pinterest)

পিন্টারেস্টে মূলত পিন করা হয়, পিন করার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের নিস নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কেটিং করা হয়। পিন্টারেস্ট ও ইনস্টাগ্রাম সম্পর্কে যৌথ বিষয়ে বিস্তারিত পরে আলোচনা করা হবে।

হোয়াটস্ এ্যাপ (WhatsApp)

হোয়াটস্ এ্যাপে মূলত একটা ম্যাসেন্জার সফট্ওয়্যার, এখানে মূলত বিভিন্ন রকমের গ্রুপ (Group) এ জয়েন (Join) করে মার্কেটিং করা হয়, বিভিন্ন বিষয়ে অনেক রকমের গ্রুপ থাকে হোয়াটস্ এ্যাপে, এসব গ্রুপ এ জয়েন করে সেখানে দেওয়া যায়, পোষ্ট, ছবি ও ভিডিও, এবং এর মধ্য দিয়ে করতে হয় মার্কেটিং। হোয়াটস্ এ্যাপের বিভিন্ন রকমের গ্রুপ লিংক পেতে পারেনঃ WhatsApp Group Link (1000+ Whatsapp Group) with Vacancy and Youtube WhatsApp Group Link (1000+ Youtube Active WhatsApp Link)

হোয়াটস্ এ্যাপ এর বিস্তারিত পোষ্ট থাকবে মার্কেটিং এর ব্যাপারে।

এছাড়াও আরো অনেক সোস্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট আছে, যেখানে মার্কেটিং করা যায়, মার্কেটিং করার কৌশল, বর্ণনা নিয়ে বিস্তারিত পোষ্ট থাকবে পরবর্তী ধাপে। – ধন্যবাদ (২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০)

1 thought on “সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি ও কিভাবে শুরু করবেন বিস্তারিত”

Leave a Comment