ফ্রিলান্সিং কি? – কিভাবে শুরু করবেন

ফ্রিলান্সিং বা ফ্রিলান্স এক ভাষায় একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ঘরে বসেই ইন্টারনেট থেকে আয় করা যায়।– এটা সবাই জানেন যারা এখন ফ্রিলান্সিং নিয়ে আগ্রহী। এখন ফ্রিলান্সিং (Freelancing) একটি নাম যার মাধ্যমে বোঝানো হয়, একজন মানুষ কোন প্রতিষ্ঠান ছাড়া নিজের মাধ্যমে ইন্টারনেটে বিভিন্ন কোম্পানির দেওয়া নানান কাজ করে থাকেন স্বাধীন ভাবে। ইংরেজী শব্দ Free থেকে হয়তো তাই বোঝানো হয়েছে। আপনার কোন বস নাই, আপনি নিজেই একজন কর্মচারি আর নিজেই মালিক।

যাই হোক ফ্রিলান্সিং একাই করতে হবে তেমন কোন নিয়ম নেই, চাইলে আপনি নিজেও একটা দল করে ফ্রিলান্সিং করতে পারেন, এর জন্য শুধু কি করবেন তা নিয়ে একটা নিয়ম তৈরী করে দল করেও ফ্রিলান্সিং করা যায়। আবার মাঝে মাঝে এমন হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠান আপনাকে ফ্রিলান্সার হিসেবে চাকরি দিলো আপনার কাজ দেখে, মানে ঐ কোম্পানির সব কাজ করে  দিতে হবে, কাজ থাক চাই না থাক তারা আপনাকে প্রতি মাসে একটা বেতন দিবে। এটাও আবার চাকরির পর্যায়ে চলে যায়, যাকে বলে ফ্রিলান্সার লেবার বা কর্মচারি। তবে যদি বাংলাদেশে বসে, ফ্রিলান্সার লেবার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বা বিদেশি যে কোন একটা প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করা যায় তাহলে কিন্তু খারাপ হয়না।

আমাদের এ দেশে এখন অনেক ছেলে ও মেয়েরা বেকার হয়ে ঘুরে বেড়ায়, তারা কিন্তু চাইলে এই ফ্রিলান্সিং এর সাথে যুক্ত হতে পারেন, কিন্তু অনেকের হয়তো ইচ্ছা থাকলেও উপায় থাকে না, অনেকের সব জানা থাকলেও যথেষ্ট পরিমান যন্ত্রপাতি থাকেনা। সাধারণ যেকোন চাকরি করার ক্ষেত্রে যেমন দেখা যায় তারা যেকোন একটা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চাকরি দিয়ে থাকেন, তেমনি ফ্রিলান্সিং করতে চাইলেও একটা বিষয় নিয়ে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। যেমনঃ ফটোশপ, ইলাসট্রেটর, ওয়েবডিজাইন ইত্যাদি। তবে এই কাজ ছাড়া আপনি যদি ভালো গান গাইতে পারেন, কিংবা ভালো ছবি তুলতে পারেন, কিংবা আপনার যেকোন বিষয়ে ভালো হলেও ফ্রিলান্সং করতে পারবেন।

ফ্রিলান্সিং কিভাবে করবেন ও কি কি করতে হবে তা নিয়ে আমি আরেকটি পোষ্ট এ আলোচনা করেছি, দেখে আসুনঃ ফ্রিলান্সিং করতে কি কি লাগে?

এখন মানুষের মনে কিছু প্রশ্ন আসতেই পারে, যেমনঃ

ফ্রিলান্সিং টা কি প্রাইমারি পেশা বা মূল পেশা হিসেবে নেওয়া যায়?

যেকোন পেশায় যখন পা রাখবেন, তখনি বোঝা যায় সেটা দিয়ে কি কি করতে পারবেন, কিন্তু তার আগে কিছু ব্যাপার যা আমি উল্লেখ করেছি, যে ফ্রিলান্সিং হল একটা এমন কাজ যার মধ্যে মূলত আপনাকেই কাজ করতে হবে, আপনি নিজেই সব, সেজন্য এই প্রশ্ন কিন্তু আসে যে আপনি যে কাজটি করতেছেন ফ্রিলান্সিং এর মধ্য দিয়ে, সেই কাজটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে এই কাজটির মূল্য কতটুকু থাকবে, সেটা বুঝতে হবে, ধরুন কিছুদিন আগেও ফ্রিলান্সিং এ ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ (ফটোশপ) এর কাজ অনেক চলছিলো, এখনো অনেকেই করে থাকেন, তাদের উদ্দেশ্যে একটা  তথ্য, ফটোশপ ২০২০ ভারশনে এখন অটো ব্যাকগ্রাউন্ট রিমোভ এর অপশন বের হয়ছে, তার মানে আপনার এই অভিজ্ঞতা ধিরে ধিরে হয়তো আর কাজে আসবেনা, কারণ এবার ফটোশপ অটো আসছে ধরুন একদম নির্ভুল ভাবে রিমোভ হচ্ছেনা কিন্তু ভবিষ্যতেও যে হবেনা সেটা তো নয়, তাও যারা এখন ও নানা বিষয়ে ফ্রিলান্সিং করেই যাচ্ছেন এবং করতে চান প্রাথমিক পেশা হিসেবে, তাদের ব্যাপারেও বলবো, আরেকটি পোষ্ট এ কিভাবে কাজ করতে হবে। যদি করতে চান ফ্রিলান্সিং সারা জীবন একমাত্র পেশা হিসেবে।

আমি ফ্রিলান্সার! কখন বলা যায়?

আসলে ফ্রিলান্সার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে চাইলে, একটা কাজ জানতে হবে, এবং তার মাধ্যমে একটা ফ্রিলান্সিং মার্কেট প্লেস এ কাজ করতে হবে। তাহলে বলা যায় আপনি ফ্রিলান্সার। অনেকে দেখা যায় কোন এমন একটা ওয়েবসাইট এ কাজ করে, যেখানে তাকে এড ক্লিক করে ইনকাম আসে, বা কোন ভিডিও দেখার মধ্য দিয়ে ইনকাম আসে, আর সে বলে ফ্রিলান্সিং করছে, এসব কাজকে ফ্রিলান্সিং বলা হয় না, তাই এসব কাজ করে কেউ যদি নিজেকে ফ্রিলান্সার বলে থাকে, তাহলে সে ভুল করছে, আর এসব কাজ শেষে অনেকে যখন তাদের টাকা পায়না, তখন ভাবে ফ্রিলান্সিং করে টাকা পাওয়া যায় না, আর সে ফ্রিলান্সিং কি সেটা না বুঝেই ছেড়ে দেয়, বিশেষ করে যারা না জেনেই ফ্রিলান্সিং শুরু করে তাদের ক্ষেত্রে এমন অনেক সময়েই হয়ে থাকে। তাই ফ্রিলান্সিং কি এবং তার সঠিক পদ্ধতি জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

এর মধ্য দিয়ে যদি আপনার মনে কোন প্রশ্ন তৈরী হয়, ঝটফট করে ফেলুন কমেন্ট এ-

Leave a Comment